দুঃসংবাদ! বন্ধ করা হল বাংলার ১.৫ কোটি রেশন কার্ড। দেখুন আপনার চালু আছে তে?

কলকাতা : খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চাহিদার প্রথম শর্তই এই তিনটি। তবে এ বিষয়ে গোটা দেশ তথা রাজ্যের মানুষের প্রতি সচেষ্ট কেন্দ্র- রাজ্য দুই সরকারই। স্বল্প মূল্যে চাল, গম কিংবা আটা এমনকি গৃহিণীর রান্না ঘরের যাবতীয় রান্নার উপকরণ কয়েক বছর আগেও নিয়মিত মিলত রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে। কিন্তু গত কয়েবছর যাবত খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র দেওয়া হয়  চাল, গম, আটার মতো নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপকরণ।West Bengal Food and Supply Ration Card Update ।



এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু খাদ্য কিংবা বাসস্থান, দুর্নীতি যেন পিছু ছাড়ছে না। তাই এবার কড়া হাতে দুর্নীতির গেরো উপড়ে ফেলতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি রেশন কার্ড আপাতত ব্লক করা হয়েছে রাজ্য খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে। এই পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যাবে  রাজ্যের খাদ্য দফতরের তালিকা অনুযায়ী রাজ্যের ১৯টি জেলায় মোট রেশন কার্ড হোল্ডার বা গ্রাহকের সংখ্যা  প্রায় ১০ কোটি ৪৫ লক্ষ। কিন্তু বর্তমান ২০২১- ২২ আর্থিক বছরে এই তালিকায়  মোট রেশন গ্রাহকের সংখ্যা ৯ কোটি ১৩ লক্ষ। 


এবার প্রশ্ন হল দেড় কোটি রেশন গ্রাহক কি রাতারাতি বেপাত্তা হয়ে গেলেন। কিন্তু এরকম টা নয়। আসলে গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র সরকারের ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ এবং চাপের কাছে অবশেষে নতি স্বীকার করতে এক প্রকার বাধ্য হয়েছে এ রাজ্যের সরকার। এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের তরফে বারংবার অভিযোগ করা হয়েছে , এ রাজ্যে রেশন দুর্নীতি বেশ প্রকট। এছাড়াও কেন্দ্র সরকারের তরফে এই দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি ভুয়ো রেশন গ্রাহকদের কার্ড বাতিল করে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসার পক্ষেই সাওয়াল করা হয়।  


অবশেষে রেশন দুর্নীতির বিষয়ে কানে জল যায় রাজ্য সরকারের। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি রেশন কার্ড আপাতত ব্লকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন একটাই সেই দুর্নীতি আসলে কি রকম। আসলে  যিনি রেশন তুলছেন বা যার নামে কার্ড রয়েছে আদতে ওই ব্যক্তির কোনও অস্তিত্ব নেই। বিষয়টি আরও খোলসা করে বলাই ভালো। ধরা যাক এক ব্যক্তির নামে কার্ড রয়েছে অথচ বেশ কিছুদিন আগেই ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছেন অথচ মারা যাওয়ার পরেও ওই ব্যক্তির রেশন কার্ড সারেন্ডার না হওয়ায় তার নামে রেশন বরাদ্দ হচ্ছে প্রতিমাসে নিয়ম করে। এবার রেশন ডিলার সেই গ্রাহকের রেশন তুলে অন্যত্র বিক্রি করছেন মহানন্দে। 


এখানেই শেষ নয়, এ ছাড়াও ভুয়ো রেশন কার্ড যেমন , যে ব্যক্তির নামে রেশন কার্ড রয়েছে  এরকম কোনও ব্যক্তি আদতে এই পৃথিবীতে অস্তিত্বহীন। অর্থাৎ খাতায় কলমে থাকলেও বাস্তবে ওই ব্যক্তির কোনও চিহ্ন মাত্র নেই। তবে এই বিষয়টি রাজ্য খাদ্য দফতরের প্রথম নজরে আসে ঠিক যে সময় থেকে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প চালু হয়। তাতে দেখা যায় ওই প্রকল্পের আওতায় গোটা রাজ্য জুড়ে খাদ্য সামগ্রী বণ্টন করতে গিয়ে ভর্তুকি দিতে একেবারে নাভিশ্বাস উঠছে রাজ্য সরকারের। তারপরই গোটা রাজ্য জুড়ে শুরু হয় ভুয়ো রেশন গ্রাহক বা কার্ড চিহ্নিত করনের কাজ। আর তাতেই ধরা পরে এই বে-লাগাম দুর্নীতির তথ্য। 



তবে আপাতত রাজ্যের প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের রেশন কার্ড ব্লক করা হয়েছে। তা এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে রাজ্য খাদ্য দফতরের পক্ষ থেকে। এই তালিকায় যে সমস্ত গ্রাহকের রেশন কার্ড ব্লক করা হয়েছে তাদের নতুন করে কেওয়াইসি অর্থাৎ আঁধার কার্ডের পরিচয় পত্র জমা করতে বলা হয়েছে। যদি ওই ব্যক্তি তার আঁধার কার্ড জমা না করতে পাশাপাশি রেশন ডিলার যদি তার গ্রাহকের আঁধার কার্ড জমা না দিতে পারেন তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির  রেশন কার্ড পুরোপুরি বাতিল তো হবেই পাশাপাশি ওই ভুয়ো রেশন কার্ড বাবদ খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের খাদ্য সামগ্রীও রেশন ডিলার তুলতে পারবেন না রাজ্য খাদ্য দফতর থেকে। Ration Card New Update। 


তবে আপাতত যে দেড় কোটি গ্রাহকের রেশন কার্ড ব্লক করা হয়েছে তা রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অধীন বলে জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন :পাকা বাড়ি পেতে এক্ষুনি আবেদন করুন প্রধানমন্ত্রী আবাস যোযনায়। পান 2 লাখের বেশি টাকা।
 

তাই আপনার কার্ড যদি ব্লক করা হয়ে থাকে তবে অতি অবশ্যই রেশন ডিলারের কাছে আঁধার পরিচয় পত্র নিয়ে দ্রুত যোগাযোগ করুন, না হলে কে বলতে পারে, শেষ পর্যন্ত পাকাপাকি রেশন কার্ড বাতিলের তালিকায় আপনার নাম উঠে যায় কি না । তাহলে কিন্তু সাড়ে সর্বনাশ। রেশন কার্ড বাতিল হলে গোটা জীবনের অর্ধেক কাজই অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে আপনার।


সরকারি জনমুখি প্রকল্পের খবর পেতে চোখ রাখুন bongodhara.com- এ 

চাকরি, ব্যবসা, প্রকল্পের খোজ পেতে নিচে দেওয়া টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন 👇👇

Telegram Channel Link : Click Here