কলকাতা : গোটা রাজ্যের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই একাধিক জনমুখি প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি রয়েছে কেন্দ্র সরকারের একাধিক জনমুখি প্রকল্প। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় হোক কিংবা একশো দিনের কাজ দুর্নীতির গেরো যেন পিছু ছাড়ছে না রাজ্যের শাসক দলের। তবে একশো দিনের কাজে দুর্নীতি আটকাতে ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এরইমধ্যে সামনে এসেছে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর (LAKHSMI BHANDAR) ভাণ্ডারের মতো জনমুখি প্রকল্পের ক্ষেত্রেও। তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পর গোটা রাজ্যের মহিলাদের বিশেষ করে ঘরের গৃহিণীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকারি তরফে চালু করা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখি প্রকল্প।
কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে রাজ্য সরকার দ্বারা চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পেও চলছে সীমাহীন দুর্নীতি। এবার সেই দুর্নীতি আটকাতে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের এই কড়া অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক গৃহিণী এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
এ বিষয়ে সরকারি তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে জাল সংশাপত্র দেখিয়ে পাশাপাশি বয়স বাড়িয়ে এমনকি সরকারি তরফে অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়া সত্তেও যে সব মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করিয়েছেন মূলত তারাই এবার পড়তে চলেছেন মহা বিপদে। এবার থেকে সঠিক কাগজ পত্র দাখিল করতে না পারলে ওই সব মহিলারা আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন না।
এবার তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারি নতুন নিয়ম বিধি সম্পর্কে। অর্থাৎ নতুন এই নিয়মের গেরোয় কারা পড়তে চলেছেন কারাই বা ছাড় পেতে চলেছেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আসছিল বেশ কয়েকদিন ধরে। কি সেই অভিযোগ?
১. এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে রাজ্যের এমন অনেক মহিলায় আছেন যারা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের অন্যান্য আর্থিক ভাতার সুবিধা ইতিমধ্যেই পেয়ে থাকেন এবার থেকে সেই সকল মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাবেন না।
২. এ ছাড়াও যারা বয়সের ক্ষেত্রে জাল সংশাপত্র অর্থাৎ সার্টিফিকেট দেখিয়ে বয়স এবং জাতীত্ব অর্থাৎ কাস্ট পাল্টে এতদিন ৫০০ টাকার বদলে নগদ এক হাজার টাকা পেয়েছেন তারা এবার থেকে আর টাকা পাবেন না। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়টি বলে রাখা ভালো সেটি হল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ক্ষেত্রে সাধারণ এবং ওবিসি ক্যাটাগরির মহিলাদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে মাসিক ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতী এবং উপজাতিদের ক্ষেত্রে রয়েছে ১০০০ টাকা। এখানে অনেক মহিলায় মাসে ৫০০ টাকার বদলে ১০০০ টাকা পাওয়ার জন্য জাল সংশাপত্র তৈরি করে তপশিলি জাতী এবং উপজাতি সম্প্রদায় ভুক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি এই বেনিয়ম সামনে এসেছে সরকারি তরফে।
৩. এ ছাড়াও যে সমস্ত মহিলারা তাদের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ব্যাঙ্ক মারফৎ না করে সমবেত ভাবে একটি অ্যাকাউন্ট দেখিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলছেন তাদের ক্ষেত্রেও এবার বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আর্থিক সুবিধা। এক্ষেত্রে ওই মহিলাকে সরাসরি ব্যাঙ্কের মাধ্যমে নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে না হলে এবার থেকে ওই মহিলা আর টাকা পাবেন না।
৪. পাশাপাশি রাজ্যে অনেক মহিলায় আছেন যারা ইতিমধ্যেই চাকরিও করছেন আবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় নাম লিখিয়ে মাসে ভাতা তুলছেন । পাশাপাশি যে সকল মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত রয়েছে অথচ তারা সম্প্রতি চাকরি পেয়েছেন, এবার থেকে তারা আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না।
৫. ব্যাঙ্কে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থাকা স্বত্তেও যে সমস্ত মহিলারা তাদের KYC আপডেট করেননি। KYC আপডেট না করা পর্যন্ত ওই সকল মহিলারা এবার থেকে আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাবেন না।
এ বিষয়ে সরকারি তরফে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি চালু হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত / পুরসভা কে ওই মহিলা বা গৃহিণীর যাবতীয় নথিপত্র খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আদতে তা শুধুমাত্র কাগজে কলমেই রয়ে গিয়েছে । কিন্তু কাগজ পত্র বা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া ওই মহিলার যাবতীয় নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখা তো দুরস্ত বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও মিলই পাচ্ছেন না রাজ্য সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত আধিকারিকরা।
ফলে স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা পুরসভার এই ঢিলেঢালা গা জোয়ারি মনোভাবের সুযোগ নিয়ে রাজ্যের একাধিক মহিলা কখনও একাধিক অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে যেমন, বারংবার অহেতুক এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন তেমনি একাধিক বিষয়ে জাল সংশাপত্র তৈরি করে এই প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করে টাকা তুলে নিচ্ছেন প্রতিমাসে নিয়ম করে।
কিন্তু এবার সেগুড়ে বালি। সাম্প্রতিক গোটা রাজ্য জুড়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের এই দুর্নীতি সামনে আসতেই একেবারে চক্ষু চড়কগাছ রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের। এবার তাই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মাস থেকে আর টাকা পাবেন না জাল সংশাপত্র জমা করা গৃহিণীরা।
উচ্চ মাধ্যমিক পাশে গ্রেড-C ও গ্রেড-D পদে প্রচুর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
তবে সরকারি তরফে বলা হয়েছে প্রকল্পের কাজ চলবে পুরোমাত্রায়। যে সকল মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈধ নথিপত্র এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিমাসে টাকা পেতে কোনও অসুবিধা নেই।
আমরা রয়েছি আপনাদের সঙ্গে । চোখ রাখুন bongodhara.com -এ
More Job News : Click Here
Telegram Channel Link : Click Here
TAG- LAKSHMI BHANDAR# PROKALPO# WB# CM

.jpg)