কথায় বলে ইচ্ছে থাকলে, উপায় হয়। কথাটি বাস্তব সত্য। তার নমুনা মিলল একেবারে হাতে নাতে । তবে নগদে নয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। কন্যাশ্রী, রুপোশ্রী, স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী থেকে শুরু করে স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড। রাজ্যের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক জনমুখি প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রকল্প শেষ হইয়াও বুঝি হইল না শেষ।
রাজ্যের সাধারণ মানের ছাত্র- ছাত্রী অর্থাৎ পড়ুয়াদের জন্য স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড তো ছিলই। মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া সাধারণ মানের ছাত্র- ছাত্রীরা স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পের সুবিধা তো পাচ্ছেনই এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে মাত্র কয়েক মাস আগেই রাজ্যের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রীর মা, মাটি মানুষের সরকার চালু করেছে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ। কিন্তু এ শুধু ঘোষণা বা মুখের কথা নয়। যেমন ভাবনা তেমন কাজ।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ১৬ লক্ষ ১৬ হাজার ১০২ জন উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ পড়ুয়া স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ বা বৃত্তির টাকা পেয়েছেন। রাজ্যের শিক্ষা দফতর সুত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ২০১১সাল থেকে ২০২২ অর্থাৎ গত আট বছরে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ মেধাবী পড়ুয়াদের স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ বা বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ মেধাবী পড়ুয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্কলারশিপের টাকা ঢুকে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক্ষেত্রে চলতি বছরে নতুন শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধা পাবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে রাজ্য সরকার দ্বারা চালু করা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে আগে যে শতাংশ নম্বর পেতে হত তা ছিল ৭৫ শতাংশ বর্তমানে এই সুবিধা অর্থাৎ স্কলারশিপের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত নম্বরের ঊর্ধ্বসীমা ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। ফল স্বরুপ আবেদনকারীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েক গুণ। তবে শুধু নম্বরের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে এমনটা নয় । এক্ষেত্রে স্কলারশিপ বা বৃত্তির টাকার পরিমাণও দ্বিগুণ করেছে রাজ্য সরকার। উল্লেখিত স্কলারশিপে আবেদনের জন্য গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করেছে রাজ্য সরকার। চালু করা ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে আবেদন করা যাবে সহজেই। পাশাপাশি চলতি আর্থিক বছরে রাজ্য বাজেটে এই খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি টাকাও বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অর্থ দফতর সুত্রে খবর।
এবার আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য বিবেকানন্দ স্কলারশিপে আবেদনের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৩রা নভেম্বর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই পোর্টালের শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গিয়েছে। এবার থেকে ছাত্র- ছাত্রীরা ওই পোর্টালে সরাসরি ঢুকে বিবেকানন্দ স্কলারশিপের আবেদন সহ যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য সহজেই চোখ বুলিয়ে নিতা পারবেন। সরকারি এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি রাজ্যের পড়ুয়ারা।
সব শেষে জেনে নেওয়া যাক রাজ্য সরকার দ্বারা চালু হওয়া স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ-এ আবেদনের ক্ষেত্রে কিভাবে আবেদন করতে হবে-
1. এ ক্ষেত্রে রাজ্যের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় নুন্যতম ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ ছাত্র- ছাত্রীরা স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ বা বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন
2. প্রথমে আবেদনকারী প্রার্থীকে সরকারি ওয়েব সাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম ডাউন লোড করতে হবে তারপর ওই ফর্মে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ যাবতীয় তথ্য দিতে হবে।
3. আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রার্থীর পরিবারের বার্ষিক আয়ের পরিমান হতে হবে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে অবশ্যই তার পরিবারের বার্ষিক আয়ের প্রমান পত্র জমা করতে হবে।
4. এ ছাড়াও আবেদনের সময় প্রার্থীকে তার ব্যাংকের পাশ বইয়ের যাবতীয় তথ্য দিতে হবে সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের টাকা পাওয়ার সুবিধার্থে।
তবে এখন পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ১৬ লক্ষ পড়ুয়া এই সুবিধা পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে সরকারি সুত্র মারফৎ। আগামী দিনে এই প্রকল্পের সুবিধা আরও বেশি মাত্রায় দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সরকারি তরফে।
শিক্ষক ও অফিস স্টাফ পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, চটপট আবেদন করুন- WB Job Requitment 2022
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরবরাই চেয়েছেন কিভাবে রাজ্যের মেধাবী পড়ুয়ারা কিভাবে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে সমাজ জীবনে ভালো ভাবে প্রতিষ্ঠা পাই। মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষা এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপ যে এক নতু নতুন পথের দিশারি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
written by - Somnath Pal.
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG- #VIVEKANANDA #SCHOLARSHIP #MAMTA BANERJEE #PORTAL #ONLINE #WB #STUDENT

.jpg)