কলকাতা : 'রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারিনা, চিন্তা হয় আগামী দিনে ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে পারবো তো' । গত সেপ্টেম্বর মাসে এমনই আশঙ্খার কথা শোনা গিয়েছিল খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এমন কথার বিশেষ তাৎপর্য যে রয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারণ একে তো রাজ্যের অর্থের ভাঁড়ার মা ভবানী তার ওপর লাগাম ছাড়া দুর্নীতি , তার জেরেই পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্ষেত্রে ১০০ দিনের কাজে মজুরির টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে কেন্দ্র সরকার। তবে রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল যে বেশ শোচনীয় তার স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা অর্থাৎ ডিএ-র বিষয়ে। বর্তমানে কেন্দ্র সরকারি কর্মীরা যেখানে তাদের মূল মাইনের ৩৮ শতাংশ ডিএ (DA) পান সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের ডিএ- র পরিমাণ মাত্র তিন শতাংশ। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতের রায়ের পরও যে সরকারের বিন্দুমাত্র হুঁশ ফেরেনি তা নিয়ে বিন্দু মাত্র সন্দেহ নেই। তবে চলতি নভেম্বর মাসের মধ্যেই কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ -র বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে উচ্চ আদালতে ।
এরইমধ্যে সাম্প্রতিক NCC ক্যাডেটদের ভাতার বিষয় নিয়ে রাজ্য সরকারের কংকাল সার চেহারা ফের প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তা নিয়েই গোটা রাজ্য জুড়ে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক তরজা। এ নিয়ে বিরোধীরা সরাসরি কটাক্ষ করতে কসুর করেনি রাজ্যের বর্তমান সরকারকে। সম্প্রতি এই ঘটনা সামনে আসতেই তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য রাজনীতি।
তবে শুধু এন সি সি ক্যাডেট দের ভাতা বন্ধই নয় গত কয়েকদিন যাবত লাগাতার রাজ্য সরকার কে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘শুধু এনসিসির ফান্ড নয়, অনেক কিছুই বন্ধ। এই যে ঝড় আসার কথা ছিল। সিভিল ডিফেন্সের ছেলেগুলোকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ওরা ৬ মাস বেতন পায় না। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। যে কোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন। পাশাপাশি তিনি সরকারি তথ্য দিয়ে দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্য সরকারের কাছে কর্মীদের নভেম্বর মাসের মাইনা দেওয়ার টাকা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মাইনে রাজ্য সরকার দিতে পারবেনা বলেও জানান বিরোধী দলনেতা।
পাশাপাশি শুভেন্দু দাবি করেন, কর্মীদের মাইনে দেওয়ার জন্য সরকার কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের কাছে দশ হাজার কোটি টাকা ঋনের আবেদন জানিয়েছে। এক টুইট বার্তায় তথ্য দিয়ে তিনি এই দাবি করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে তিনি রাজ্য সরকারের ঋণের আবেদনে সাড়া না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন । এ ছাড়াও শুভেন্দু দাবি করেন, ইতিমধ্যেই রাজ্য তার ঋণ নেওয়ার কোটা পূরণ করে ফেলেছে। এই অবস্থায় রাজ্য সরকার তার কর্মীদের মাইনে দেওয়ার জায়গায় নেই বলে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা। তবে এই প্রথম নয়, রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করতে গিয়ে এই ধরনের ভবিষ্যদ্বানী এর আগেও একাধিকবার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কখনো তিনি বলেছেন, ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারের পতন হবে, কখনো বলেছেন সরকার সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে, আবার কখনো বলেছেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনও হয়ে যাবে। অর্থাৎ তৃণমূল সরকার কার্যত অচল হয়ে যাবে বলে দায়ী করেছেন শুভেন্দু।
মাত্র থেকে রেশনে মিলবে সারা মাসে ১০০ টাকায় এবারর মুদিখানা, জেনেনিন বিস্তারিত : Ration Update :
তবে বিরোধী দলনেতার কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শাসক দল। এ বিষয়ে তৃণমূলের একাধিক নেতা পাল্টা শুভেন্দুর দাবিকে নস্যাৎ করে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার কে কালিমালিপ্ত করতেই গা জোয়ারি মন্তব্য করছেন বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বেতন বন্ধ নিয়ে শুভেন্দুর কথাকে পাল্টা কটাক্ষ করে রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সরকারি কর্মীদের মাইনে বন্ধ হবে বলে কর্মীদের মনে ভয় ধরিয়ে দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন বিরোধী দলনেতা। এ বিষয়ে রাজ্যের ঋণ নেওয়ার গ্রাফ যে ক্রমশ নিম্নগামী সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তবে পরিস্থিতি মোটের ওপর বেশ কঠিন তা কেন্দ্রের কাছে ঋণের আবেদনে জলের মতো স্পষ্ট। কারণ বিরোধী দলনেতাকে পাল্টা আক্রমণ করলেও ঋণের বিষয়টি এখনও অস্বীকার করেননি রাজ্যের কোনও মন্ত্রিই। শেষ পর্যন্ত কি হয় তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শঙ্কিত গোটা সরকারি কর্মী মহল।
written by -Somnath Pal.
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG- #WB #GOVT #NCC #MAMTA #SHUBHENDU #FUND #SALARY

.jpg)