রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান।
কলকাতা : মাত্র দুদিন আগের কথা । নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২রা জানুয়ারি রাজ্যের মানুষের জন্য ফের কল্পতরু হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আর হওয়ায় স্বাভাবিক । কারণ আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন । এই অবস্থায় শিক্ষা হোক কিংবা গোটা বাংলা জুড়ে আবাস দুর্নীতি, একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় শাসক তৃণমূলের । নিয়োগ দুর্নীতির দগদগে ঘা এখনও শুকাইনি । এরইমধ্যে রাজ্য সরকার কে বেকায়দায় ফেলেছে গ্রামবাংলার একশো দিনের কাজ আর গোটা বাংলা জুড়ে আবাস যোজনায় লাগামহীন দুর্নীতি । এই অবস্থায় কিভাবে এই ক্ষত মেরামত করে রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরা যায় তা নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর মাথা ব্যাথার অন্ত নেই । তাই কোনও রকমে পুরনো প্রকল্পের হাত ধরে ফের বাংলার মানুষের কাছে নতুন ভাবে পৌঁছতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী । তবে বিষয়টি স্পষ্ট করেই বলাই ভালো ।
আসলে ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ রাজ্যের মসনদে পরপর তিনবার তৃণমূল সরকার । ইতিমধ্যেই রাজ্যের মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নতির স্বার্থে নয় নয় করে ৭০ টির ওপর জনমুখি প্রকল্প চালু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রকল্প গুলির সুবিধা পাচ্ছেন রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষ । তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে । এই প্রকল্প গুলির তালিকা বেশ লম্বা , যেমন শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য এমনকি রাজ্যের কৃষক বন্ধু থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার পর্যন্ত অন্তর ভুক্ত রয়েছে ওই তালিকায় ।
এবার এই প্রকল্প গুলির রাজ্যের মানুষের দরজায় সরাসরি পৌঁছে দিতে নতুন বছরের দ্বিতীয় দিনে দলের কর্মী সম্মেলন থেকে মুখ্যমন্ত্রী দুটি নতুন দিশা দেখিয়েছেন গোটা রাজ্য জুড়ে দলের সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী কে । এবার ওই সাড়ে তিন লক্ষ কর্মী সরাসরি দিদির দুত (DIDIR DOOT) হিসাবে পৌঁছে যাবেন রাজ্যের ২ কোটি পরিবারে কাছে । শুধু পৌঁছে যাওয়ায় নয়, দিদির দুতেরা এবার রাজ্যের মানুষের দরজায় গিয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবেন তাদের অভাব অভিযোগ। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা প্রকল্পের ৭০ টি প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি প্রকল্পগুলির সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেবেন রাজ্যের মানুষের দুয়ারে। এমনকি ওই প্রকল্প গুলির সুবিধা রাজ্যের মানুষ সঠিক ভাবে পাচ্ছেন কিনা তার খোঁজ খবর নেবেন দিদির দুতেরা । রাজ্যের মানুষের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রীর এই নয়া প্রকল্পের নাম 'দিদির সুরক্ষা কবচ' (DIDIR SURAKSHYA KOBOCH)। মদ্যা কথা এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরক্ষা কবচের গেরোয় পড়তে চলেছেন রাজ্যের কয়েক কোটি মানুষ । পাশাপাশি দিদির আতস কাঁচের তলায় পড়তে চলেছেন দিদির নিচু তলার দুর্নীতি বাজ ভাইয়েরা ।
তবে এই প্রথম নয় এর আগেও ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের ফর্মুলা অনুযায়ী 'দুয়ারে সরকার' (DUARE SARKAR) প্রকল্প চালু করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী । এবার রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন । ঠিক তার আগেই ফের মুখ্যমন্ত্রীর নয়া প্রকল্প 'দিদির দুত ' । কিন্তু ভোট এলেই এ রকম প্রকল্প ঘোষণার তাৎপর্য কি ?
এর কারণ তা অবশ্য বেশ স্পষ্ট । এবিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিচুতলার কর্মীদের প্রতি রাশ যে তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বের একেবারে হালকা হয়েছে তার প্রমান নিচু তলার নেতা কর্মীদের করে কম্মে খাওয়ার প্রবনতায় । আসলে নিচু তলার নেতা কর্মীদের লাগাম হীন স্বজন পোষণ আর দলের নামে দেদার তোলাবাজি, দুর্নীতি যে তৃণমূল নেত্রীর কাছে বেশ অস্বস্তির তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । এই অবস্থায় দলের পরিচ্ছন ভাব মূর্তি গোটা রাজ্যবাসীর কাছে তুলে ধরতে তৃণমূল নেত্রীর এই নতুন কৌশল বলে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছে রাজ্যের বিরোধী গেরুয়া শিবির ।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেত্রীর এই সুরক্ষা কবচ আর দিদির দুত কে কটাক্ষ করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেছেন , 'এরা দিদির দুত নয় দিদির ভূত ভাই' । তবে বিরোধী দলনেতাকে পাল্টা কটাক্ষ করতে কসুর করেনি রাজ্যের শাসক দল । ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেছেন , 'দিদির ভূত তাড়া করে বেরাচ্ছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা কে' । ঘটনায় গোটা রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত । তবে কোনও কিছুকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী ।
এরই মধ্যে একধাপ এগিয়ে গোটা রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায় পৌঁছে গিয়েছে দিদির সুরক্ষ কবচের যাবতীয় ফর্মুলা । সেই মতো রাজ্যের ২ কোটি পরিবারের কাছে হাতে নতুন বছরের ক্যালেন্ডার সহ দিদির পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে হাজির হতে প্রস্তুত দিদির দুত ভাইরা । ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় যে গাইড লাইন পৌঁছে গিয়েছে তা এই রকম , আপাতত মুখমন্ত্রীর চালু করা প্রকল্প গুলিকে ছয় - ছয়টি স্ল্যাবে ভাগ করা হয়েছে । যেমন , শিক্ষা , স্বাস্থ্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার , কৃষক বন্ধু , তপশিলি বন্ধু , জয় জোহার ইত্যাদি ।
এবার দেখে নেওয়া যাক ওই ছ'টি ভাগের পূর্ণ বিবরণ -
১) দিদির সুরক্ষা কবজের অধীনে প্রথম যে বিষয়টি স্থান পেয়েছে তা হল সামাজিক সুরক্ষা। আর সামাজিক সুরক্ষার অধীনে রয়েছে লক্ষীর ভান্ডার, মানবিক পেনশন, কৃষক বন্ধু, বিধবা ভাতা, সামাজিক সুরক্ষা ঘোষণা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
২) দ্বিতীয় ক্ষেত্র অর্থাৎ উপার্জনের আওতায় রাখা হয়েছে যুবশ্রীর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্পকে।
৩) তৃতীয় ক্ষেত্রে স্থান দেওয়া হয়েছে শিক্ষাকে। আর শিক্ষার আওতায় রয়েছে কন্যাশ্রী, ঐক্যশ্রী, শিক্ষাশ্রী সহ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড-এর মতো প্রকল্প।
৪)চতুর্থ ক্ষেত্রে রয়েছে স্বাস্থ্য। আর স্বাস্থ্যের আওতায় রয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে কার্যকরী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প।
৫) পঞ্চম ক্ষেত্রে রয়েছে আবাস। আর সাধারণ মানুষের বাসস্থানের ক্ষেত্র সুরক্ষিত করতে এক্ষেত্রে বাংলা আবাস যোজনা এবং নিজ গৃহ নিজ ভূমি স্কিমকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
৬) ষষ্ঠ ক্ষেত্রে রয়েছে জয় বাংলা এবং জয় বাংলার অধীনে স্থান দেওয়া হয়েছে জয় জোহার ও তপশিলি বন্ধু প্রকল্পকে
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১১ই জনুয়ারি থেকে রাজ্যের মানুষ তাদের বাড়ির দরজায় দেখতে পাবেন দিদির সুরক্ষা কবচ স্কিমের আওতায় থাকা দিদির দুত ভাইদের । বর্তমানে ওই দুতদের রীতিমতো ট্রেনিং অর্থাৎ প্রশিক্ষণ চলছে জেলায় জেলায় তৃণমূলের সদর কার্যালয়ে । ত্রনিং অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষেই দিদির দুতেরা সময় মতো পৌঁছে যাবেন মানুষের দরজায় । তাহলে আর চিন্তা কি ? এবার রাজ্যের মানুষ যেমন সরাসরি পাবেন দিদির চালু করা প্রকল্পের খুঁটিনাটি তথ্য সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা তেমনি রাজ্য জুড়ে শাসক দলের দুর্নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের আঁচ যে অনেকটাই নিভে যাবে তা বলাই বাহুল্য ।
written by - Somnath Pal .
রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান।
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click
TAG - #NEW SCHEME #WB #DUYARE SARKAR #DIDIR DOOT #TMC #MAMTA BANERJEE #SURAKHSYA KABOCH

.jpg)