দুঃসংবাদ! DA নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারি কর্মী মহলে, সরকারের হুশ ফেরাতে নয়া কৌশল -WB Govt employees

রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

কলকাতা : কথায় বলে আশায় বাঁচে চাষা। কথাটি বাস্তব সত্য । এর কারণটা বেশ স্পষ্ট । ধরাযাক রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডি এ-এর বিষয়টি । এমনিতেই মামলা ঝুলছে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় । কবে সুরাহা হবে তা নিয়ে সংশয়ের অন্ত নেই । কবে ঘুম ভাঙ্গবে রাজ্য সরকারের । কবে বকেয়া DA মিলবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকারি কর্মী মহল । পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের আশা ছিল এতো কিছুর পরেও হয়তো রাজ্য সরকার তাদের প্রতি সদয় হবে । অর্থাৎ নতুন বছরের শুরুতেই ষষ্ট বেতন কমিশনের (6th pay commission) আওতায় ৩ শতাংশ DA  পাবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা । দীর্ঘ যন্ত্রণা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা । কিন্তু তা আর হচ্ছে কোথায় ? ।



আসলে সেই কবে কার কথা । নয় নয় করে কেটে গিয়েছে সাত সাতটা বছর । ২০১৫ সালে শেষ বারের মতো রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA এর ভাঁড়ার পূর্ণ করে ছিল রাজ্য সরকার । সেই শেষ সেই বেশ । তারপর যা অবস্থা তা বলাই বাহুল্য । ন্যায্য পাওনা অর্থাৎ বকেয়া ডি এ -এর দাবিতে কখনও আদালত আবার কখনও রাজপথে নেমে আন্দোলন, সবই সাক্ষী থেকে রাজ্য । তারপরেও অবস্থা তথৈ বচ । সাম্প্রতিক পরিস্থিতি যে বেশ ঘোরালো তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । 


তবে এরই মধ্যে রবিবার বছর শুরুর দিনেই  ন্যায্য পাওনার বিষয়ে আশাবাদী রাজ্য সরকারি কর্মীরা । বকেয়া ডি এ নিয়ে আদালতের নির্দেশ যে তাদের পক্ষেই যাবে তা নিয়ে আশাপ্রকাশ করেন রাজ্য সরকারি কর্মী ইউনিয়নের ইউনিট ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার । সুপ্রিম কোর্টে তাদের জয় হবে বলেও ওইদিন আগাম ভবিষ্যতবাণী শোনা যায় দেবপ্রসাদ বাবুর কণ্ঠে । এ বিষয়ে তিনি এক ধাপ এগিয়ে আশাপ্রকাশ করে জানান , ২০১৬ সাল থেকে যে মামলা ঝুলে আছে, এবার ফয়সালা হয়ে যাবে। তাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদেরই জয় হবে শেষ পর্যন্ত । পাশাপাশি আদালতের দরজায় সুরাহা না হলে রাজ্য সরকারের হুঁশ ফেরাতে শেষ পর্যন্ত গণ ছুটির মতো আন্দোলনের হুমকিও দিয়ে রেখেছে রাজ্যের একাধিক কর্মী সংগঠন । 


এবার রাজ্য সরকারের হুঁশ ফেরাতে একধাপ এগিয়ে আদালতের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল রাজ্য সরকারি একাধিক কর্মী সংগঠন । এমনকি ন্যায্য পাওনার দাবিতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একাধিক কর্মী সংগঠন এক ছাতার তলায় অর্থাৎ একজোট হয়ে আন্দোলনের কথাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে । এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসাবে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে আগামী ২৭শে জানুয়ারি তাঁরা কলকাতা পুরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন এবং এতে যোগদান করবেন সরকারী কর্মী, শিক্ষক এবং গ্ৰুপ ডির কর্মীরা। এছাড়াও এই আন্দোলন কর্মসূচীতে একজোট হতে দেখা যাবে আরও ২৫টি কর্মী সংগঠন কে । প্রত্যেকটি কর্মী সংগঠন এক সাথে  মিলে এই অবস্থান বিক্ষোভ করা হবে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কর্মী সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে । ইতিমধ্যে গণ ছুটির আবেদনও করেছে তারা । এ বিষয়ে একাধিক কর্মী সংগঠনের দাবি আদালতে মামলার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের হুঁশ ফেরাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । 


তবে  শুধু রাজ্য সরকারি কর্মী ইউনিয়নের ইউনিট ফোরামের সভাপতিই নয় ,  সুপ্রিম কোর্টের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য  করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর ফেস বুক পোস্ট ঘিরে গোটা রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা ।  ২০২২ বছর শেষের দিন কয়েক আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তাঁর ফেস বুক পোস্টে লিখেছেন , এবার হয়তো রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA দেবে রাজ্য সরকার । আর শুভেন্দুর এই ইঙ্গিত পূর্ণ মিন্তব্যের পরেই তৈরি হয় জোর আলোচনা ।  এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত , আগামী ১৬ ই জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে DA  মামলার শুনানি  । ওই মামলার রায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে যাবে বলে অনুমান করেই এমন মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা । তবে শেষ পর্যন্ত মামলার রায়ে কি ফলাফল  হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত । 



এমনিতেই রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের শূন্যতা নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কণ্ঠে যেমন শোনা গিয়েছে তীব্র কটাক্ষের শুর তেমনই  রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের শূন্যতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় প্রতি মুহূর্তে শোনা গিয়েছে আক্ষেপের সুর । কিন্তু তা বললে তো  চলবে না । সরকারি কর্মীদের ডি এ-র দাবি যে যুক্তি সঙ্গত সে কথা স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাইকোর্ট । কিন্তু রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী।   এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা যে  একেবারে খাদের কিনারায় তা স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব স্বয়ং  । 


ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের  DA  নিয়ে হাইকোর্টে ঝাড়ি খেয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের মে মাসে ডি এ মামলায় রাজ্য সরকার কে তিন মাসের মধ্যে কর্মীদের বকেয়া ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের পরই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে রাজ্য সরকার। তাতেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে ২২ মের রায়ই বহাল রাখে হাইকোর্ট।


শেষ পর্যন্ত বকেয়া ডি এ না পেয়ে  রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন রাজ্যের একাধিক কর্মচারী সংগঠন। সেই মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেইমতো সরকারের তরফে আদালতে হলফনামা পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের যুক্তি হাইকোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে গেলে ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।  সেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনাতীত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে।



তবে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ১২ শতাংশ ডি এ বৃদ্ধি করেছে প্রতিবেশি ত্রিপুরা সরকার । তাতে ওই রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ার থেকে বাড়তি ১৪৪০ কোটি টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত এক ধাক্কায় কর্মীদের বকেয়া ডি এ - এর বিষয়ে সহৃদয়তার পরিচয় দিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা । এই বৃদ্ধির ফলে ওই রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডি এ -র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশ । আগে ত্রিপুরার সরকারি কর্মীদের ডিএ - র পরিমাণ ছিল ৮ শতাংশ । এবার  একধাক্কায় ডি এ বাড়ল ১২ শতাংশ । পরিসংসংখ্যান বলছে এই বাড়তি ডি এ -র সুবিধা পাবেন ওই রাজ্যের ১ লক্ষ সরকারি কর্মচারী প্রায় আশি হাজার পেনশন ভোগী ।


শুধুই কি ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই তামিল নাডুর স্ট্যালিন সরকার তার রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য ৪ শতাংশ বর্ধিত হারে বেতন এবং ডিএ ঘোষণা করেছেন নতুন বছরের শুরুতেই । ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন বলেছেন,  এই ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের ১৬ লক্ষ কর্মচারী উপকৃত হবেন। এর পাশাপাশি লাখ লাখ পেনশনভোগীও বর্ধিত পেনশন পাবেন। সরকারি কাজে কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি । কর্মীদের ক্ষেত্রে এই ডি বৃদ্ধির বিষয়টিকে নব বর্ষের উপহার হিসাবে আক্ষা দিয়ে স্ট্যালিন আরও বলেছেন, এর জেরে তামিলনাডু সরকারের প্রায় ২৩৫৯ কোটি টাকা বাড়তি খরচ হবে । পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে সঠিক কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি । 


কিন্তু এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের শেষ পর্যন্ত কি হবে ? একের পর এক রাজ্য সরকার যখন তাদের রাজ্যের সরকারি কর্মীদের প্রতি আর্থিক ভাবে সহৃদয়তার পরিচয় দিচ্ছেন ,সেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবশ্য আর্থিক দৈনতার  দোহায় দিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছেন । কিন্তু প্রতিবেশি রাজ্যের সরকারের ভুমিকায় যে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বেশ অক্সিজেন পাচ্ছেন পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ওপর ক্রমশ চাপ বাড়ছে সে কথা বলাই বাহুল্য । তবে আদালতের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক কর্মী সংগঠনের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ আন্দোলনে যে আগামীতে রাজ্য সরকার কে তীব্র অস্বসস্তিতে পড়তে হবে তা আর বলার অপেক্ষা থাকেনা । 


written by - Somnath Pal. 

রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

For More Job News: Click Here


 Join Our Telegram Channel :   Click

TAG - #DA #HIGHCOURT #GOVT #WB #SALARY  #DEARNESS ALLOWANCE