সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা অবসর কালে মোটা টাকা পেনশন(pension) পান। কিন্তু দেশে সরকারি চাকুরিজীবী(govt employee) মানুষের সংখ্যা শতাংশের হারে খুব একটা বেশি নয়। তার ওপর ভারতবর্ষ মূলত কৃষি নির্ভরশীল দেশ। দেশে সরকারি চাকরিজীবী মানুষের চাইতে বেসরকারি কিংবা ছোটোখাটো ব্যবসাদার অথবা কৃষিজীবী মানুষের সংখ্যায় বেশি। এই অবস্থায় দেশের বেশির ভাগ মানুষের বৃদ্ধকালীন জীবন কে আর্থিক ভাবে সুরক্ষিত এবং সু নিশিত করতে বেশ কয়েক বছর আগেই পেনশন প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
গত ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি প্রথম বারে কেন্দ্রের মসনদে পর দেশের প্রান্তিক মানুষের আর্থিক দৈনদশা কাটাতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প(prakalpa) হাতে নেয়। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে তালিকার রয়েছে অটল(atal pension yojna) পেনশন যোজনা, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, পাবলিক প্রবিডেন্ট ফান্ডের মতো একাধিক জনমুখি প্রকল্প। প্রকল্পগুলি যে বেশ জনকল্যান মূলক সে বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।
তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পিপিএফ(ppf) অ্যাকাউন্টের কথা জানেন না এমন মানুষ বোধ করি খুঁজে পাওয়া যাবেনা। কারণ পিপিএফ অর্থাৎ পাবলিক(public provident fund) প্রবিডেন্ট ফান্ড মূলত বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক ভাবে সুনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তৈরি করা হয়েছিল বেশ কয়েক দশক আগে। তারপর অবশ্য কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক দশক। বৃদ্ধ কালে আর্থিক ভাবে নিরাপদ এবং স্বাচ্ছন্দে থাকতে দেশের অনেক মানুষই পিপিএফ অর্থাৎ পাবলিক প্রবিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন।
পাশাপাশি পিপিএফের ধাঁচে অটল পেনশন যোজনার সুবিধা নিয়েছেন দেশের বেশির ভাগ প্রান্তিক দিন মজুর মানুষ। কিন্তু পাবলিক প্রবিডেন্টের আওতায় এই পেনশন প্রকল্প আসলে কি যা বৃদ্ধ কালীন বয়সে ঘরে বসে আপনি পেতে পারেন ২১০০০ টাকা পেনশনের মতো সুবিধা।
এ বিষয়ে সরকারি তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় ১৮ বছর বয়স থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি যদি তার ৬০ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত প্রতিমাসে নিয়ম করে টাকা জমাতে পারেন তাহলে ওই ব্যক্তির ৬০ বছর পার হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিমাসে নিয়ম করে ৫০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। তবে এর জন্য ওই বিনিয়োগকারী কে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন ২০০ টাকা জমা করতে হবে ।
এমনকি এই স্কিমের আওতায় বিনিয়োগকারী ওই ব্যক্তি দুটি পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ত খুলতে পারেন যেমন -
১) এনপিএস টিয়ার ওয়ান
২) এনপিএস টিয়ার টু
এবার দেখে নেওয়া যাক পেনশন প্রকল্পটির যাবতীয় নিয়মবিধি ও তথ্য সম্পর্কে---
1. মূলত ২৪ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি যদি প্রতিমাসে ২০০ টাকা করে জমান তাহলে ৬০ বছর বয়সে ওই ব্যক্তির মোট টাকার পরিমাণ হবে ২৫ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। এছাড়া এতে বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে রিটার্ন পাবেন। যা যোগ করলে মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। এই বিনিয়োগের উপর ১০ শতাংশ হারে সুদের হার হিসেব করলে বিনিয়োগের মোট অর্থ দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৯০৬ টাকায়। সেখান থেকে আপনি মাসিক পেনশন বাবদ ৫০ হাজার টাকা পেতে পারেন সহজেই ।
2 . ৬০ বছর পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে প্রতিমাসে নিয়ম করে সরকারের ঘরে টাকা জমাতে হবে। ওই ব্যক্তির ৬০ বছর পর্যন্ত জমাকৃত টাকার ওপর সরকার সুদ সহ ওই ব্যক্তিকে মোট টাকার হিসাবে তার ওপর প্রতিমাসে পেনশন প্রদান করা হয় ।
4. যদি ওই ব্যক্তি কোনও কারণে মারা যান তাহলে ওই ব্যক্তির নামাঙ্কিত নমিনি কে সরকার সুদ সহ এককালীন সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবে। অর্থাৎ নমিনি কে সব টাকা সুদ সহ ফিরিয়ে দেবে সরকার।
5. প্রকল্পটি দেশের সব কয়টি পোস্ট অফিস এবং ব্যাঙ্কে উপলব্ধ রয়েছে। অর্থাৎ নিকটবর্তী যেকোনো রাস্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক এবং পোস্ট অফিস মারফৎ দেশের যে কোনও ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
6. এই প্রকল্পে জমা হওয়া টাকা কর মুক্ত অর্থাৎ ট্যাক্স (tax free)ফ্রি।
8. এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে যে কোনও পোস্ট অফিস অথবা ব্যাঙ্কের শাখায় নিজের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।
তাহলে আর দেরি না করাই ভালো। যদি বৃদ্ধ কালে আপনি আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে আর্থিক ভাবে নিরাপদে রাখতে চান তাহলে এখনই নিকতবর্তী পোস্ট অফিস কিংবা ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করুন অতি শীঘ্র।
written by- Somnath Pal
রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান।
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click
TAG- #PENSION #SCHEME #SMALL INVESTMENT #PPF

.jpg)