নয়াদিল্লী- স্কিম টা বেশ পুরনো তবুও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আজও প্রাসঙ্গিক। আর হবে নাই বা কেন। কারণ ব্যাঙ্ক হোক কিংবা অন্য কোনও আর্থিক সংস্থা ভারতীয় পোস্ট অফিসের স্বল্প সঞ্চয় (Recuring Deposit) স্কিমকে টেক্কা দেবে কে? আসলে বহুকাল আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মাথাব্যথার কারণ একটাই। সেটি হল কোথায় বিনিয়োগ করলে ভালো হবে কিংবা এককালীন বিনিয়োগ (investment) নাকি ক্ষেপে ক্ষেপে টাকা বিনিয়োগ বেশি লাভ জনক বুঝে ওঠা দায়। কারণ বাজারে এখন হাজার রকমের ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান নিয়ে হাজির একগুচ্ছ সংস্থা। কারা কটা বেশি দেবে আর কারা কটা কম নেবে তাই নিয়েই প্রতিযোগিতার পালা। তবে বিনিয়োগকারী অর্থাৎ ইনভেস্টকারীরা অবশ্য বিনিয়োগের আগে সব দিক খতিয়ে দেখেই বিনিয়োগ করেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে বেসামাল অর্থনীতির চাপে ভারতীয় বাজার বেশ তলানিতে। দেশের জিডিপির হাল ক্রমশ নিম্নগামি। তথাপি দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে বুনিয়াদি এবং সুদৃঢ় করতে ভারতীয়(Indian Post office scheme) ডাক বিভাগ অর্থাৎ ইন্ডিয়ান পোষ্ট অফিসের কোনও বিকল্প নেই। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত অবশ্য এমনটাই।
কারণ খোদ ভারত সরকারের সংস্থা বলে কথা। তবে শুধুমাত্র সাম্প্রতিক সময়ে নয় , একেবারে স্বাধীনতার শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গোটা দেশের মানুষের স্বার্থে একাধিক জনকল্যান মূলক ইনভেস্টমেন্ট স্কিম নিয়ে হাজির হয়েছে ইন্ডিয়ান পোস্ট(Indian Post Office) অফিস। গত কয়েক দশক ধরে অবশ্য পোস্ট অফিসে ভাঁটার টান পড়ে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে ফের একবার স্বমহিমায় দেশের মানুষের সামনে অবতীর্ণ হয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ।
তবে দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে এখনও পর্যন্ত বিনিয়োগের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান ভারতীয় ডাক বিভাগ অর্থাৎ ইন্ডিয়ান পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট স্কিম(Recuring Deposit Scheme). এই স্কিমে এখনও পর্যন্ত এই দুর্মূল্যের বাজারেও দেওয়া হচ্ছে ৫.৮ শতাংশ সুদ। আসলে এককালীন হোক কিংবা স্বল্প সঞ্চয় , আমানতের ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক হোক কিংবা অন্য কোনও আর্থিক সংস্থা কে বহুকাল আগেই পিছনে ফেলে দিয়েছে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট স্কিম ।
এই স্কিমের আওতায় দেশের যে কোনও ব্যক্তি প্রতি মাসে মাত্র ১০০ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন পাশাপাশি সাধ্য মতো যে কেউ আবার এই স্কিমের আওতায় প্রতি মাসে ১০০০ - ১০০০০ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারেন ।
রেকারিং ডিপোজিটের সুবিধা গুলি কি কি ?
১) ধরা যাক কোনও ব্যাক্তি এই স্কিমের আওতায় যদি প্রতি মাসে ১০০ টাকা জমা করেন তাহলে এক বছরে ওই ব্যাকটির জমানো টাকা র পরিমাণ ১২০০ টাকা । এক্ষেত্রে বার্ষিক চক্র বৃদ্ধি ৫.৮ শতাংশ সুদের হারে ওই ব্যাক্তি মেয়াদ শেষে পেয়ে যাবেন ১৫০০ টাকা । এই ভাবে কোনও ব্যাক্তি যদি প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে জমা করেন তাহলে মেয়াদ শেষে ওই ব্যক্তি ১০ বছর মেয়াদ শেষে পেয়ে যাবেন ১.৫ লক্ষ টাকা । প্রতিমাসে ১০০০০ টাকা করে জমালে মেয়াদ শেষে ওই ব্যাক্তি পাবেন ১৬ লক্ষ টাকা ।
২) এই স্কিমের আওতায় প্রতি তিন মাস অন্তর আমানত কারী ব্যাক্তির অ্যাকাউন্টে ৫.৮ শতাংশ হারে সুদ জমা হতে থাকে পোস্ট অফিস মারফৎ ।
৩) পোস্ট অফিসের যেকোনো শাখায় যে কোনো ব্যক্তি গিয়ে পোস্ট অফিস রেকারিং ডিপোজিট বা (RD Scheme) - এর একাউন্ট খুলতে পারেন।
৪) এই প্রকল্পের আওতায় একাধিক ব্যাক্তি মিলে জয়েন্ট একাউন্ট খুলতে পারেন । এমনকি তিনজন মিলেও জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা যেতে পারে।
৫) আবার কোনও নাবালকের নামে তার পরিবারের কোনও অভিভাবক এই অ্যা কাউন্ট খুলে টাকা জমাতে পারেন । তবে কোনও ব্যক্তির ১০ বছর অতিক্রান্ত হলেই তিনি এই স্কিমের আওতায় নিজ নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন ।
৬) এক্ষেত্রে বিনিয়োগের কোনও উচ্চ সীমায় কোনও নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম বিধি নেই।
৭ ) এই স্কিমের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর । এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির টাকা সম্পূর্ণ কর মুক্ত অর্থাৎ ট্যাক্স ফ্রী।
এক কথায় স্বল্প অর্থাৎ ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে পোস্ট অফিসের রেকারিং ডিপোজিট স্কিমের (RD Scheme ) জুড়ি মেলা ভার। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাই আর দেরি না করে নিকটবর্তী পোস্ট অফিসে যোগাযোগ করাই ভালো। কারণ বর্তমানের এই ক্ষুদ্র সঞ্চয় আপনার ভবিষ্যৎ জীবন কে আর্থিক ভাবে নিরাপদ করতে পারে বিলক্ষণ।
written by -Somnath Pal.
More Job News : Click Here
Telegram Channel : Click Here
TAG- SCHEME# INDIAN POST OFFICE#RD SCHEME #RECURING DEOSIT #INVESTMENT

.jpg)