কলকাতা : স্কুল সার্ভিস থেকে শুরু করে অন্যান্য নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্য সরকারের একেবারে ল্যাজে গোবরে অবস্থা। সাম্প্রতিক রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী গ্রেফতার কাণ্ডে সেই ছবি বেশ স্পষ্ট। এরই মধ্যে রাজ্যের ৬১৪ টি মাদ্রাসা(madrasa) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। সম্প্রতি এই বিষয়ে রাজ্য মাদ্রাসা সার্ভিস(madrasa service commission) কমিশন মারফৎ শিক্ষক শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ দফতরের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তা যে শুধু সময়ের অপেক্ষা তা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী জনাব গোলাম রব্বানি। WBMSC New Reqruitment 2022।
এ বিষয়ে মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যের ৬১৪টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে শিক্ষক শূন্য পদের ক্ষেত্রে নিয়োগের (recruitment) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে শুধুমাত্র অর্থ দফতরের অনুমদনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে ইতিমধ্যেই খোলসা করেছেন মন্ত্রী।
তবে বর্তমানে রাজ্যের ৬১৪ টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪৭০০ জন শিক্ষকের পদ শূন্য (vacancy) রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিজ্ঞান শাখায়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক পদ একেবারে শূন্য হয়ে গিয়েছে। ওই শূন্য পদ গুলি দ্রুত পূরণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের রিপোর্ট পৌঁছে গিয়েছে রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরে।
এ বিষয়ে রাজ্য মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন সুত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং বীরভূমের একাধিক মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত জরুরি বলে জানানো হয়েছে। তবে এরইমধ্যে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের আওতায় নিয়োগ বিধিতে ব্যপক রদ বদল করা হয়েছে।
পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ এবং শূন্য পদ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই একপ্রস্থ বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে আন্দোলনরত মাদ্রাসা শিক্ষা মঞ্চের সভাপতি মনিরুল ইসলামের স্পষ্ট বক্তব্য, গত দশ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৩ সালে শেষ বারের মতো রাজ্য মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই সময় শূন্য পদ অনুযায়ী নিয়ম মেনে নিয়োগ পত্র দেয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। এ বিষয়ে উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, ওই সময় মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন মারফৎ বলা হয়েছিল মোট ৩১৮৩ টি শূন্য পদ পূরণ করা হবে। অথচ পরীক্ষা ও যাবতীয় টেস্টের পর দেখা গেল নিয়োগ পরীক্ষার ৫ বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে সব নিয়ম বিধি উল্টে মাত্র ১৯০০ জন কে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত আরও এক চাকরি প্রার্থীর দাবি শুধুমাত্র পয়সা খরচ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি ঘটালেই চলবে না। সময় মতো উপযুক্ত শূন্য পদ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ না করলে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়বে।
আরও পড়ুনঃ আধার দফতরে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি বেশ প্রতিকূল। মাদ্রাসা থেকে শুরু করে স্কুল সার্ভিস কমিশন এমনকি প্রাইমারী শিক্ষায় নিয়োগে লাগামহীন দুর্নীতির ফলায় ইতিমধ্যেই বিদ্ধ রাজ্যের বর্তমান শাশক দল তৃণমূল। এই অবস্থায় কিভাবে এই দুর্নীতিকে চাপা দিয়ে পুনরায় স্বচ্ছ পদ্ধতি মেনে সর্ব ক্ষেত্রে কিভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা যায় সেটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্যের শাসক দলের কাছে। কিন্তু এরই মাঝে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে নিয়োগের খবরে রাজ্যের সংখ্যা লঘু ভাই বোনেরা যে বেশ খুশি তা বলাই বাহুল্য।
চাকরির খবর পেতে চোখ রাখুন bongodhara.com -এ
More Job News : Click Here
Telegram Channel Link : Click Here
tag- madrasa#Reqruitment# madrasa service commission# recruitment

.jpg)