পরিবারে সরকারি চাকরি আছে? তাহলে সামনে বিরাট বিপদ! চুপিচুপি জেনেনিন। WB Govt Employee।

কলকাতা : কথায় বলে অর্থই অনর্থের মূল। সম্প্রতি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা গ্রেফতারের ঘটনায় সেই কথায় স্পষ্ট। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির জেরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী তথা সদ্য প্রাক্তন শিল্প মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়(PARTHA CHATTERJEE) কে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই(CBI)। অবশ্য গ্রেফতার কাণ্ডে দোসর হয়েছেন মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। দিন যত এগোচ্ছে তদন্তের গ্রতি প্রকৃতিও তার সঙ্গে বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বোধ করি তদন্ত করে দুর্নীতির উৎস মুখ সহ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত অভিযুক্তদের নিজেদের কব্জায় নিতে বেশ তৎপর সিবিআইয়ের গোয়েন্দা আধিকারিকরা। 



কিন্তু শুধু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো মন্ত্রী কিংবা দলের মহাসচিবই  নয়, ইতিমধ্যেই গরু পাচার কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিবিআই গোয়েন্দারা গ্রেফতার করেছেন বীরভূমের বেতাজ বাদশা তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল কে। বর্তমানে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতের নির্দেশে কেষ্ট এখন গারদে প্রমাদ গুনতে ব্যাস্ত। তবে কেষ্ট মণ্ডলের নাগাল পেতে তদন্তের শুরুতে তার দেহরক্ষী সায়গল হোসেনকেই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তকারী আধিকারিকরা। মূলত সাইগলের হাত ধরেই বীরভূম তৃণমূলের দাপুটে জেলা সভাপতির দরজায় পৌঁছে যান গোয়েন্দারা। প্রত্যক্ষ না হলেও পরোক্ষে সরকারি পুলিশকর্মী দেহরক্ষী সাইগলের মাধ্যমেই গরু পাচার চক্র অনুব্রত দেদার চালাতেন বলে সে তথ্যও ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের। 


মন্ত্রী পার্থ কিংবা দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত, দুর্নীতি এবং পাচারের ক্ষেত্রে  তারা যে সরকারি আধিকারিক অথবা কর্মচারীদের রীতিমতো কাজে লাগিয়েছেন তা অবশ্য বুঝতে বাকি নেই কারও। এই অবস্থায় বেশ অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। কিন্তু কি ভাবে তৃণমূলের ঘাসফুলের ওপর থেকে দুর্নীতি আর লাগাম ছাড়া হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির কালি তোলা যায় তা নিয়ে তৃণমূলের দলীয় আলোচনা সভায় বারংবার উঠে আসছে সেই প্রসঙ্গ। 


এমনিতে দুর্নীতি কাণ্ডে মন্ত্রীত্ব থেকে অপসারণের পাশাপাশি দলের মহাসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে। কিন্তু পার্থ কাণ্ডে দল হাত ধুয়ে ফেললেও ইতিমধ্যেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দলের দক্ষ সংগঠক অনুব্রত মণ্ডলের পাশেই দাঁড়িয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। তা নিয়ে অবশ্য ইতিমধ্যেই দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড তথা তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কিছুটা হলেও নীতিগত দুরত্ব তৈরি হয়েছে দল নেত্রীর। 


কিন্তু দুর্নীতি আর পাচার কাণ্ডে শুধু দল কিংবা সরকারের মন্ত্রী নয় সরকারি কর্মচারীদের নাম জড়ানোয় আরও বেশ কিছুটা বাড়তি চাপ এসেছে রাজ্যের শাসক দলের ওপর। কারণ শিক্ষক দুর্নীতি কাণ্ডে ইতিমধ্যেই সিবিআই গোয়েন্দাদের আতস কাঁচের নজরে রয়েছেন মানিক , সুবিরেশের মতো রাজ্য সরকারের শিক্ষা সংসদের দায়িত্ব পূর্ণ আধিকারিকরা। শিক্ষক দুর্নীতি কাণ্ডে মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কলকাতা  হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই হাজিরা দিয়েছেন এই দুই আধিকারিক। 


শিক্ষক দুর্নীতি, গরু পাচার তদন্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে কয়লা পাচার তদন্ত। কয়লা পাচার কাণ্ডে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের আর এক তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেণ্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডির তদন্তকারী আধিকারিকদের মুখোমুখি হয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কয়লা পাচার কাণ্ডে ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৮ জন আই পি এস আধিকারিককে দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে তলব করা হয়েছে।


দুর্নীতি ও পাচার কাণ্ডে  দলীয় নেতা কিংবা মন্ত্রী থেকে শুরু সরকারি আধিকারিক এবং কর্মচারীদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় গেল গেল রব উঠেছে গোটা রাজ্য জুড়ে। সঙ্গত কারণেই সমস্ত দায় এসে চেপেছে রাজ্যের শাসক তথা তৃণমূল সরকার ওপর।  এই অবস্থায় দল এবং সরকারের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি কিভাবে ফেরানো যায় সেটাই এখন লক্ষ্য তৃণমূলের। এ বিষয়ে রাজ্যের কোনও আধিকারিক কিংবা সাধারণ কর্মচারীকে যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দুর্নিবার তদন্তের মুখোমুখি না হতে হয় বা অপদস্থ না হতে হয়, পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ওপর দুর্নীতির দায় না বর্তায় তার জন্য একটি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার।  


এর কারণ অবশ্য স্পষ্ট।  মন্ত্রী, থেকে শুরু করে দলীয় নেতা কর্মী কিংবা সরকারের আধিকারিক অথবা সাধারণ কর্মচারী প্রসঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বেশ সক্রিয়। কথায় কথায় দুর্নীতি আর পাচার প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কে আক্রমন করার সময় তৃণমূল সরকারের কর্মচারীদের জড়িয়ে বৃহৎ দুর্নীতির তকমা সেঁটে দিচ্ছে রাজ্যের বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা।  একে তো  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নাম জড়িয়ে যাওয়া তার ওপর বিরোধী দল গুলির ক্রমাগত আক্রমনের জোড়া ফলায় বিদ্ধ রাজ্যের শাসক তৃণমূল। 

আরও পড়ুন : মাত্র 21 টাকা জমিয়ে লাখ পতি হন এইভাবে। 

কিন্তু তৃণমূল সরকারও হাল ছাড়তে নারাজ। পাছে দুর্নীতি আর পাচার চক্রে আবার কোনও সরকারি কর্মচারীর নাম জড়ানোর পাশাপাশি হিসাব বহির্ভূত সম্পত্তির খতিয়ান সামনে না আসে তাই কোনও রকম ঝুঁকি নিতে রাজী নয় তৃণমূল সরকার। অপদস্ত হওয়ার ভয়ে  আগেভাগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে সরকারি ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে সরকার কে। গত কয়েকদিন আগেই রাজ্য সরকারের সদর দফতর নবান্ন মারফৎ সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশে বলা হয়েছে অনতি বিলম্বে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীকে তার সমস্ত সম্পত্তির হিসাব দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরে।

আরও পড়ুন : আধার কার্ড নিয়ে বিরাট ঘোষণা!  এক্ষুনি জেনেনিন। 

আর নবান্নের এই নির্দেশের পরেই বিরোধীরা যে আরও আক্রমনাত্মক ভাবে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে চেপে ধরবে তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা অবশ্য এটিকে তৃণমূল সরকারের দায় এড়ানোর রাজনীতির সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, এভাবে কি বেঁচে যাওয়া যায়। কারণ ভোটের সময় তো রাজনৈতিক নেতারা তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দেন তাহলে দুর্নীতি আর পাচার চক্রে পার্থ , অনুব্রতর বিপুল সম্পত্তি , টাকা পয়সা কোথা থেকে এলো। এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের স্পষ্ট যুক্তি পাপ কখনও বাপ কে ছাড়েনা। সময় এলে তদন্তে তা আরও একবার প্রমান হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনও দায় থাকবে না সেটাই বাড়তি পাওনা তৃণমূল সরকারের।


Join Telegram Channel : Click Here


More News : Click Here

TAG- CBI#ED#INVESTIGATION# CORRUPTION#WB# EMPLOYER