কলকাতা : ২১ শে জুলাইয়ের মঞ্চ হোক কিংবা প্রশাসনিক বৈঠক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর একটিই কথা, "চাকরি আমি দিতে চাই"। কিন্তু এ যে শুধু আশারবানী তা ফের একবার স্পষ্ট হল নিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তায়। আসলে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন বার্তার একটা বিশেষ তাৎপর্য আছে বৈ কি। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের অর্থের ভাণ্ডার ভাঁড়ে মা ভবানী। তার ওপর শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় রাজ্য সরকারের ল্যাজে গোবরে অবস্থা। তাই নিয়োগ নিয়ে অতি সাবধানী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।বর্তমানে তিনি ও তার ছায়াসঙ্গীরা সিবিআই গোয়েন্দাদের র্যাডারে রয়েছেন। তদন্তও চলছে জোরকদমে। তবে দুর্নীতির দায় ঝেড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই কয়েককদম এগিয়ে মন্ত্রিত্ব থেকে অপসারণের পাশাপাশি দলের মহাসচিব পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে দুর্নীতিবাজ পার্থকে।
কিন্তু দুর্নীতির এ কালি যে সহজেই ঘাস ফুলের ওপর থেকে উঠবে না তা মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর বোঝেন ক'জন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অপসারণের পরও নিয়োগ নিয়ে বারংবার তৃণমূল নেত্রীকে কাঠগড়ায় তুলছেন রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা নেত্রীরা। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ক্রমাগত আন্দোলন জারি রেখেছেন আন্দোলনকারী চাকরি প্রার্থীরা। তা যে তৃণমূল সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ তা আর বুঝতে বাকি নেই কারও। এক মাত্র স্বছ নিয়োগই যে এই আন্দোলনের রাশ কিছুটা লাঘব করতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
অন্যদিকে শিক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব রাজ্যের বামপন্থী নেতৃত্ব। এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি শুধু শিক্ষায় নয়, স্বাস্থ্য দফতরের নিয়োগেও ব্যাপক দুর্নীতি করেছে এ রাজ্যের সরকার। তবে ইতিমধ্যেই রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদের কাটা ঘায়ে মলম লাগাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন কয়েক মাসের ব্যবধানে রাজ্যে ৮৯ হাজার চাকরি প্রার্থীকে নিয়োগ নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন "যারা বিচার পাইনি তারা আমদের সরকারের হাত ধরেই বিচার পাবে"।
নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণার পরই রাজ্যের একাধিক দফতরে নিয়োগের তোরজোড় শুরু করেন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রিরা। পাশাপাশি ৮৯ হাজার নিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ওই আশারবানীর পরই ফের কিছুটা চাঙ্গা হন রাজ্যের বেকার যুবক- যুবতীরা। কিন্তু শুধু নিয়োগ পত্র দিয়ে নিযুক্ত করলেই তো হবেনা । কর্মচারীদের মাস মাইনা তো দিতে হবে।
তাই আর দেরি না করে সাম্প্রতিক রাজ্যের শূন্য প্রায় অর্থ ভাণ্ডারের কথা চিন্তা করে এবার নিজের বক্তব্যের থেকে প্রায় ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে রাজ্যের মন্ত্রিদের মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, অর্থ দফতরের অনুমতী ছাড়া কোনও দফতরে নিয়োগ করা যাবেনা। অর্থাৎ কোনও দফতরে স্থায়ী বা অস্থায়ী নিয়োগ করতে গেলে রাজ্যের অর্থ দফতরের অনুমতী নিতে হবে।
কিন্তু হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ বিষয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন কেন ?
প্রসঙ্গত , দিন কয়েক আগেই শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের অর্থ ভাণ্ডারের বর্তমান ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থার কথা। ওই দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন রাজ্যের অর্থ ভাণ্ডার বেশ সঙ্গিন। এই অবস্থায় রাজ্যের প্রান্তিক মানুষ কে ১০০ দিনের কাজের টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "রাতে ভালো করে ঘুমাতে পারিনা, চিন্তা হয় শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে পারবো তো।"
SBI ব্যাংকে একাউন্ট থাকলে পাবে 6,000 টাকা। সত্যি কী তাই? ব্যাংক কী বলল । Bank Scheme ।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, রাজ্য সরকার এখন শাঁখের করাতে দু'দিক দিয়ে কাটা পড়ছে। একে তো নিয়োগ দুর্নীতি তৃণমূলের ঘাড়ের ওপর ক্রমাগত নিঃশ্বাস ফেলছে। তার ওপর চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলন, পাশাপাশি বিরোধীদের ক্রমাগত লাগামছাড়া আক্রমণ। অন্যদিকে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব কিছুকে রুখে দিতে হবে কিন্তু বাঁধ সাধছে ভাঁড়ে মা ভবানী রাজ্যের শূন্য কোষাগার। মূলত এই কারণেই দিশাহীন হয়ে পড়ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
written by- Somnath Pal.
চাকরি হোক কিংবা সরকারি প্রকল্প , সঠিক খবর পেতে চোখ রাখুন bongodhara.com -এ
Join Telegram Channel : Click Here
More News : Click Here
TAG- #RECRUITMENT #CM#MAMTA_BANERJEE #FINANCE_DEPARTMENT

.jpg)