Primary Tet পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর, ১১০০০ শূন্যপদ কাদের? B.ed /D.el.ed কারা যোগ্য? কবে বা কীভাবে আবেদন? রইল বিস্তারিত

কলকাতা - রবিবারই চলে গিয়েছে মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান আর মাতৃ পক্ষের শুরু।  হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরই বাঙালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা (durga puja)পুজো। এমনিতেই দুর্গা পুজো নিয়ে গোটা বাঙালী মনে আনন্দের সীমা নেই। তার ওপর এবার পুজোর এক মাস আগেই ঢাকে কাঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা(mamata banerjee) বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধুই কি ঢাকে কাঠি, সাম্প্রতিক অগ্নিমূল্যের বাজারে গোটা বাংলার মানুষ কে পুজোর বাড়তি আনন্দ দিতে প্রতি বছরের মতো এবারও দরাজ হস্তে রাজ্যের ৪৩ হাজার পুজো কমিটিকে ৬০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অবশ্য পুজো উপলক্ষ্যে অনুদান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ভোট রাজনীতিকে সামনে এনে দান খয়রাতীর ধুয়ো তুলে মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।  



এমনিতেই শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জর্জরিত রাজ্যের শাসক দল। তার ওপর দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যেই গারদে গিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ(partha chaterjee) চট্টোপাধ্যায়। দুর্নীতির শিখণ্ডী অবশ্য এখানেই থেমে নেই।  দুর্নীতির কোপে পড়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যেই পর্ষদ সভাপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে মানিক ভট্টাচার্য কে। কিন্তু দিনের পর দিন তদন্ত যত এগোচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে কেঁচোর বদলে কেউটে বের হচ্ছে। এই অবস্থায় শিক্ষক নিয়োগ মামলায় তৃণমূল সরকার যে বেশ অস্বস্তিতে তা বলাই বাহুল্য। তার ওপর শিক্ষার্থী বিশেষ করে চাকরি প্রার্থীদের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে জেরবার তৃণমূল সরকার। তাই এবার কোনও রমম ঝুঁকি নিতে রাজী নয় মমতা সরকার। এই অবস্থায় এক মাত্র স্বচ্ছ নিয়োগই(fresh recruitment) যে সরকারের অস্বস্তি কমিয়ে দুর্নীতির কালি মুছতে পারে তা আর বুঝতে বাকি নেই এই সরকারের। 


পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রাজ্যের  প্রাথমিক শিক্ষাঙ্গন গুলিতে (primary education) তড়িঘড়ি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। এ বিষয়ে কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, রাজ্যে এখন শিক্ষক পদে প্রচুর শূন্যপদ রয়েছে। ওই শূন্যপদগুলি আগামী বছরের মধ্যেই পূরণ করা হবে। তার ওপর দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকরা উচ্চ (high court)আদালতের নির্দেশে চাকরি হারালে মোট শূন্যপদের সংখ্যা যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভেবেই গায়ে কাঁটা দিতে শুরু করে সরকারের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলাদের। তাই আর দেরি না করে রাজ্যের বেশির ভাগ স্কুলগুলির দৈনদশা এবং শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ক্রমাগত অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলতে উদ্যোগী হয় সরকার। ইতিমধ্যেই নতুন করে স্বচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সদ্য নিযুক্ত পর্ষদ সভাপতি গৌতম পালের সঙ্গে এক প্রস্থ বৈঠকও সেরে ফেলেন রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য(bratya basu) বসু। 


তবে পুজোর পরেই কি সরকার রাজ্যের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল গোটা রাজ্য জুড়ে। এর মধ্যেই সোমবার রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদের সমস্ত জল্পনা কল্পনায় জল ঢেলে ফের একবার  বেকার যুবক- যুবতীদের পাকাপাকি চাকরির খবর  শোনালেন রাজ্য স্কুল শিক্ষা সংসদের নব নিযুক্ত সভাপতি  গৌতম (goutam pal)পাল । 


এ বিষয়ে এদিন পর্ষদ সভাপতি বলেন, আগামী ১১ ই ডিসেম্বর রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পুজোর আগেই এ বিষয়ে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর মারফৎ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পর্ষদ সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, পুজো চলাকালীন রাজ্যের বেকার চাকরি প্রার্থীরা প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন। কালী পুজোর মধ্যেই এই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন পর্ষদ সভাপতি। 


তবে এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর সুত্রে জানা গিয়েছে, 

১। বর্তমানে রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল গুলিতে ১১ হাজার শুন্য পদ পূরণের কথা জানানো হয়েছে। তার জন্য টেট পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । তবে ধাপে ধাপে প্রতিবছর  টেট পরীক্ষার মাধ্যমে বাকি শূন্য পদ গুলি পূরণ করা হবে ।


২। এই বছর থেকেই প্রতিবছর নিয়ম করে টেট পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে। 


৩। একমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক পাশ এবং ডিএলএড  প্রশিক্ষণ নেওয়া চাকরি প্রার্থীরাই টেট পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।


৪। এ ক্ষেত্রে বি এড প্রশিক্ষণ নেওয়া চাকরি প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন কিনা সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 


৫। আগের নিয়মেই টেট পরীক্ষায় ১৫০ নম্বর বরাদ্দ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। 


৬। পরীক্ষার বিষয় সূচিতে অঙ্ক, বাংলা, ইংরাজি, পরিবেশ বিদ্যা এবং শিশু মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলি রাখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। 


৭ । আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদন ফী নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে কিছু জানানো না হলেও এক্ষেত্রে পুরনো নিয়মে সাধারণ এবং ওবিসি ক্যাটাগরির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং সংরক্ষিত অর্থাৎ তপশিলি জাতী- উপজাতি এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা  আবেদন ফী রাখা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে । 


৮। আবেদনকারীর বয়সের  ওবিসি/তপশিলি জাতী/ উপজাতি বা সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে পুরনো নিয়মেই সরকারি ছাড় দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। 


৯। তবে এবার পরীক্ষার উত্তর পত্রে কারচুপি ঠেকাতে পাশাপাশি টেট পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে পর্ষদ সুত্রে জানা গিয়েছে।


তবে উপরের  নিয়মাবলীতে কোনও পরিবর্তন হয় কিনা তা স্পষ্ট হবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই । কিন্তু প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষা যে চলতি বছরের মধ্যেই সাঙ্গ হবে তা এদিন পর্ষদ সভাপতির কথায় বেশ স্পষ্ট । তাই আর দেরি না করে এখন থেকেই তৈরি হন। পুরনো পড়াগুলি একটু ঝালিয়ে নিন চলতি পুজোর আনন্দের মাঝেই। কারণ পুজো পেরলেই প্রাথমিকে চাকরির পরীক্ষা আপনার দুয়ারে যে কড়া নাড়বে তা বলাই বাহুল্য।   

  

written by - Somnath Pal.

চাকরি হোক কিংবা সরকারি প্রকল্প , সঠিক খবর পেতে চোখ রাখুন bongodhara.com -এ 


Join Telegram Channel : Click Here


More News : Click Here

TAG- #TET #PRIMARY #EDUCATION #BRATYA BASU #GOUTAM PAL #DURGA PUJA