কলকাতা : "ছাত্র- ছাত্রী উজাড় করে দিলেও আমার মন ভরেনা "- মাত্র কয়েক দিন আগের কথা । সম্প্রতি কৃষ্ণ নগরের প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের প্রায় সাড়ে দশ লক্ষ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী বা দ্বাদশ শ্রেনিতে পাঠরত পড়ুয়াদের স্মার্ট ফোন কিংবা ট্যাব কেনার জন্য ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প টিকে রাজ্য সরকারের তরফে পাকাপাকি শিলমোহর দিয়ে নাম রাখা হয়েছে "তরুনের স্বপ্ন" প্রকল্প । আর তা নিয়েই যত বিপত্তি। তবে এই বিষয়টি নতুন নয় ।
বিগত মহামারী কালে গোটা বিশ্বে আর্থিক দৈন দশার পাশাপাশি ছাত্র- ছাত্রীদের পড়াশোনাও প্রায় শিকেয় ওঠার জোগাড় হয়েছিল। ওই সময় পড়ুয়াদের পড়াশোনার কথা মাথায় রেখে ছাত্র- ছাত্রীদের অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্মার্ট ফোন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুধুই কি ঘোষণা , মুখ্যমন্ত্রীর কথা মতো বিগত দু বছরে রাজ্যের দ্বাদশ শ্রেনির কয়েক লক্ষ ছাত্র- ছাত্রী অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে স্মার্ট ফোন কেনার জন্য তাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পেয়েও যায়।
কিন্তু চলতি বছর উদ্ভুত পরিস্থিতি বেশ কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় ফের স্কুলে পঠন- পাঠন শুরু হয় অফলাইনে । কিন্তু এবারও মুখ্যমন্ত্রী ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতি দ্বরাজ হস্ত। আর হবে নাই বা কেন । মুখ্যমন্ত্রীর লক্ষ্য একটাই রাজ্যের দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র- ছাত্রীদের উচ্চতর শিক্ষায় উন্নীত করা ।
তবে এ নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই । এ বিষয়ে শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, এখন তো করোনা নেই। তাহলে এখন স্মার্ট ফোন দেওয়ার প্রয়োজন কি ? তার ওপর রাজ্যের আর্থিক অবস্থা বেশ শোচনীয় । এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন । কিন্তু কে শোনে কার কথা। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তেই অবিচল। আসলে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলে কথা ।
পোস্ট অফিসের ধামাকা অফার , মাত্র 5000 টাকা দিন আর প্রতিমাসে আয় করুন লাখ লাখ টাকা-Post Office Scheme
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'ছাত্র- ছাত্রীদের উজাড় করে দিলেও তার মন ভরেনা' । গত সপ্তাহে নেতাজী ইনডোরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতি দ্বরাজ হস্তের ছবি ফের স্পষ্ট হয় রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের বক্তব্যে । তবে হাজার বিতর্কের মাঝেই রাজ্যের দশ লক্ষ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী তথা দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ছাত্র - ছাত্রীদের বৈষম্য দূর করতে স্মার্ট ফোন - ট্যাব কেনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানিয়ে একধাপ এগিয়ে রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন , "এটা অনলাইন বা অফলাইন পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে দেওয়া হচ্ছে না। রাজ্যের সমস্ত মেধাবী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারের তরফ থেকে এই ট্যাব বা স্মার্টফোন দেওয়া হচ্ছে"।
তবে কোনও বিতর্কেই কান দিতে নারাজ রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যখন ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়ন হবেই। এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই 'তরুনের স্বপ্ন' প্রকল্পে রাজ্যের প্রায় সাড়ে দশ লক্ষ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে ঢুকে যাবে। রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ার যাই হোক না কেন মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে আপাতত খুশির হাওয়া দ্বাদশ শ্রেনির পড়ুয়াদের মনে । তবে শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটাই এখন দেখার ।
written by - Somnath Pal .
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG - #WB #GOVT #SMARTPHONE #TAB #PRAKALPA #MAMTA #HIGHER SECONDARY

.jpg)