এই প্রকল্পের টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে, সরকারি নিয়মে বেকায়দায় পড়তে পারেন দেশের বহু কৃষক, কেন ?-PM Kishan Refund

নয়াদিল্লী : "নিজে খাবো না কাউকে খেতে দেবো না"। প্রথমবার ক্ষমতায় এসে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দুর্নীতি প্রসঙ্গে এমনই বচন শুনিয়েছিলেন  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(MODI)। কিন্তু দেশ বাঁচানোর তাগিদে প্রধানমন্ত্রীর ওই আশ্বাসের বানী শুনছে ক'জন। আসলে দুর্নীতি(CORRUPTION) যেন গোটা দেশের মানুষকে গিলে খেয়েছে। পরিস্থিতি এমন, দুর্নীতি যেন দেশের মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকার।  আসলে শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য কিংবা সরকারি প্রকল্প দুর্নীতির গেরো যেন পিছু ছাড়ছে না। তার নমুনা মিলল একেবারে হাতে নাতে। তবে এবার যে সে প্রকল্প নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প পি এম (PM KISHAN YOJNA)কিষাণ যোজনায়। 



এমনিতেই গো'বলয়ের উত্তরপ্রদেশে(UP)অর্থাৎ যোগী রাজ্যে সীমাহীন দুর্নীতি সামনে এসেছে পি এম কিষাণ যোজনার মতো জনমুখি প্রকল্পের ক্ষেত্রে। তার জেরে প্রবল ইতিমধ্যেই অস্বস্তিতে ওই রাজ্যের গোটা মন্ত্রী সভা থেকে শুরু করে খোদ কৃষি মন্ত্রী নিজেই। তবে এই দুর্নীতির ছোঁয়া থেকে আপাতত শত যোজন দূরে রয়েছেন ওই রাজ্যের মন্ত্রী থেকে শুরু করে আমলা এবং বিজেপির নেতা মন্ত্রিরা। কারণ এই দুর্নীতির সিংহ ভাগই ঘটেছে কৃষক রুপি সুবিধাভোগী এবং স্বার্থান্বেষী ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষকের (FRAUD FARMER) কারসাজীতে। 


ইতিমধ্যেই ওই ভেকধারী কৃষকদের ৬০০০ টাকা হাতানোর কৌশল কে ধরে ফেলেছেন সরকারি আমলারা। ঘটনা এই রকম, জানা গিয়েছে যোগী (YOGI) রাজ্যে ইতিমধ্যেই পি এম কিষাণ যোজনার আওতায় কৃষক ভাতা পাচ্ছেন প্রায় ৮৬ লক্ষ কৃষক। তবে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ টি হল, ওই ৮৬ লক্ষ কৃষকের মধ্যে প্রায় ২১ লক্ষ সুবিধাভোগী আদতে কৃষকই নন। অথচ গোরা থেকে আজ পর্যন্ত নিয়মিত পি এম কিষাণ যোজনার আওতায় ৬০০০ টাকা করে কৃষক ভাতা পাচ্ছেন ওই ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষক। সম্প্রতি এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসতেই চক্ষু চড়কগাছ খোদ কৃষি মন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকারের আমলাদের। 


এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা শুরু হয়েছে খোদ রাজধানির দরবারে। পাশাপাশি ওই ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষক কে ইতিমধ্যেই টাকা ফেরতের নির্দেশ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে সরকারি তরফে। কিন্তু কি করে ঘটল এমন ঘটনা ? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রকল্পের শুরুতে ওই ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষক জাল কাগজ পত্র জমা দিয়ে পি এম কিষাণ যোজনার আওতায় তাদের নাম নথিভুক্ত করে। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে ওই ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষক আদতে চাষের কাজের সঙ্গে যুক্তই নন। এমনকি কেউ কেউ  নিজে তো ভাতা পাচ্ছেনই, আবার নিজের স্ত্রীর নামে জাল কাগজ পত্র তৈরি করে স্বামী- স্ত্রী দু'জনে মিলে হাতিয়ে নিচ্ছেন পি এম কৃষক সম্মান নিধির বার্ষিক ৬ হাজার টাকা। 


কিন্তু প্রকল্প থাকলে নিয়মিত তার তত্বাবধান তো  থাকবেই। কারণ ওই খাতে ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের অর্থ দফতরের খরচ হয়েছে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। কারণ গোটা দেশে প্রায় ১০ কোটি কৃষক আপাতত এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন। সম্প্রতি প্রকল্পটির আপডেট করতে গিয়েই ওই ভেকধারী কৃষকদের কারসাজী সামনে আসে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের। তারপরেই যা হওয়ার। ওই ২১ লক্ষ ভুয়ো কৃষক কে টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারি তরফে। 


এবার আরও একধাপ এগিয়ে (PM Kisan Yojana) এর টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। যারা এই যোজনায় ইতিমধ্যে টাকা পেয়েছেন তাদের অবিলম্বে টাকা কেন্দ্রীয় সরকারের ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেরত দিতে হবে। এই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দুটি ব্যাংক একাউন্টের নম্বর দেওয়া হয়েছে। স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার ৪০৯০৩১৩৮৩২৩ এবং অন্য একাউন্টটি হলো ৪০৯০৩১৪০৪৬৭ টাকা ফেরত দেওয়ার পরে ইউটিআর জমা দিতে হবে।


এ বিষয়ে ভারত সরকারের স্পষ্ট যুক্তি,শুধু মাত্র ভেকধারী কৃষকই নয় , এক্ষেত্রে যে সকল কৃষকরা প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান নিধির সুবিধা পাচ্ছেন অথচ  সরকারকে নিয়মিত  আয়কর দেন অর্থাৎ আয়কর দাতার তালিকায় রয়েছেন সেই সকল কৃষকরা প্রধান মন্ত্রী কৃষক সম্মান নিদি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন । এক্ষেত্রে ওই সকল কর দাতা কৃষক দের কৃষক সম্মান নিধির বাৎসরিক ৬ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে অবিলম্বে । 


ইতিমধ্যেই বিহারের ডি বি ডি এগ্রিকালচার ওয়েব সাইট সুত্রে জানা গিয়েছে , আয়কর দাতা ও অন্যান্য কারণে ইতিমধ্যেই ওই সকল কৃষকদের চিহ্নিত কড়া হয়েছে । পাশাপাশি ওই সকল কৃষক দের অবিলম্বে টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এ ক্ষেত্রে টাকা ফেরতের পর ওই কৃষকদের প্রমান পত্র হিসাবে স্থানীয় কৃষি আধিকারিকের কাছে টাকা ফেরতের স্লিপ পাঠাতে বলা হয়েছে । এমনকি উপযুক্ত সময়ের মধ্যে ওই সকল কৃষক রা যদি টাকা ফিরিয়ে না দেন তাহলে ওই কৃষকরা সরকারি যে কোনও প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন বলে জানানো হয়েছে সরকারি তরফে ।   

New Business Idea : সরকার দেবে ৫০% ,এখনই শুরু করুন এই ব্যবসা, দ্রুত হয়ে উঠতে পারেন লাখপতি 

কিন্তু কারাই বা এই প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা পেতে পারেন ?


এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কৃষক যোজনা বা পি এম কিষাণ (PM KISHAN SOMMAN NIDHI)  সম্মান নিধি প্রকল্পের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, 

১.  একমাত্র যে সকল কৃষকের নিজস্ব জমি আছে তারাই এই প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা পেতে পারেন।

২. এক্ষেত্রে কোনও কৃষক যদি কারও জমি লিজ বা ভাগে চাষ করেন তিনি এই সুবিধা পাবেন না। 

৩. এ ক্ষেত্রে ওই কৃষকের পরিবারে কারও নামে জমি থাকলে হবে না, সুবিধা ভোগী কৃষকের নামে জমির রেকর্ড থাকতে হবে। 

৪. যদি ওই কৃষকের পরিবারে কোনও সরকারি চাকুরীজীবী থাকেন তাহলে তিনি এই সুবিধা পাবেন না। 

৫. ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার অপেক্ষাকৃত এলিট শ্রেণির পেশার সঙ্গে যুক্ত কৃষক সদস্য এই সুবিধা পাবেন না। 

৬. এ ছাড়াও যদি কোনও কৃষক ১০ হাজার টাকার ওপর পেনশন ভোগী হন তাহলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।  


written by - Somnath Pal.

For More Job News: Click Here


 Join Our Telegram Channel :   Click Here


TAG- #MODI #AGRICULTURE #PM KISHAN YOJNA #UP #CORRUPTION #FARMER