High Court Order : 'বাবুগিরি' বন্ধ করুন , কাজে গাফিলতি হলেই বন্ধ হতে পারে বেতন -ডিএ , সরকারি কর্মীদের শবক শেখালেন জাস্টিস গাঙ্গুলিকলকাতা : এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা । সরকারি চাকুরিজীবীরাও এবার আদালতের নজরদারিতে । আর হবে নাই বা কেন । সরাকারি অফিসে গিয়ে সঠিক পরিষেবা না পেয়ে হাইকোর্টে মামলা ঠুকেছিলেন আশা শ্রীবাস্তব । আর তার জেরেই একেবারে খড়গহস্ত কলকাতা হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। তবে একটা কথা বেশ স্পষ্ট । শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই জাস্টিস গাঙ্গুলি যে তার কড়া সিদ্ধান্ত ও অবস্থানের জন্য ভগবান স্বরুপ তা বলাই বাহুল্য । কারণ শিক্ষক দুর্নীতি মামলায় মহামান্য বিচারপতির অভূতপূর্ব রায়দানে ইতিমধ্যেই রাজ্যের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় যে জেলের ঘানি টানছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা ।
এবার রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তার কড়া অবস্থান স্পষ্ট করলেন জাস্টিস গাঙ্গুলি । বিশেষ করে আশা শ্রীবাস্তবের অভিযোগের কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালে চাকরি পান মামলাকারী আশা শ্রীবাস্তব । মাঝখানে চাকরি চলে যায় তাঁর। কয়েকবছর পর ফের যোগ দেন কর্মস্থলে। চাকরি। তবে ২০২০ সালে অবসর নেন তিনি। তবে চাকরি করেও সরকারি তরফে ডিএ বা বকেয়া না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি । এরপরই মামলাকারীর অভিযোগ শুনে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় অভিযুক্ত স্কুল পরিদর্শককে হাজিরা দিতে বলেন। এরপরই আদালতের নির্দেশানুসারে তার সমস্ত বকেয়া ডিএ পেয়ে যান মামলাকারী । তবে এই বিষয়ে স্কুল পরিদর্শককে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আশার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করার পর বহুদিন ধরে, ক্লার্কের টেবিলে পড়েছিল। আর সেই শুনেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেন সরকারি কর্মীদের “বাবুগিরি” করা ব্যক্তিদের ডিএ এবং বেতন (DA and Salary)নিয়ে খতিয়ে দেখবেন।
এ বিষয়ে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের সাফ কথা, “বাবু কালচার বন্ধ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।” এছাড়া গঙ্গোপাধ্যায় তাদের ডিএ-বেতন নিয়ে বলেছেন, “যাঁরা নিজেদের দায়িত্বটুকুও পালন করেন না কেন তাঁদের বেতন, ডিএ দেওয়া হবে৷”
আসলে আসি যাই , মাইনে পাই । যেনতেন প্রকারেণ একটা সরকারি চাকরি (GOVT JOB ) জুটিয়ে নিতে পারলেই হল । ব্যাস তাহলেই কেল্লা ফতে । একেবারে সুনিশ্চিত ইনকাম আর আর্থিক ভাবে নিরাপদ জীবন । স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি চাকুরী জীবীদের জীবন একেবারে সুনিশ্চিত আর স্বাচ্ছন্দে ভরা । কারণ সরকারি চাকরিতে যেমন চাকরি যাওয়ার ভয় নেই, তেমনি চাকরি শেষে মোটা অঙ্কের প্যাকেজ নিয়ে বার্ধক্য জীবন নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দেওয়া যায় দিব্যি । অথচ বেসরকারি চাকরিতে নিয়মটা অবশ্য বরাবরই ফেল কড়ি, মাখ তেল । তাই বেকার চাকরি প্রার্থীরাও ক্রমশ ঝুঁকে পড়েন সরকারি চাকরির আশায় । কিন্তু এবার সেগুড়ে বালি । এর কারণ কি ? তাহলে বিষয় টি স্পষ্ট করে বলাই ভালো ।
কেন্দ্রীয় হোক কিংবা রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিষয়ে এবার নয়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার । এবার সরকারি চাকুরি জীবীদের জন্য সাড়া দেশ ব্যাপি চালু হতে চলেছে শ্রম কোড (LABOUR CODE )। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নিয়মটি চালু হওয়া যে শুধু সময়ের অপেক্ষা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । এই নিয়মটি চালু হলে সরকারি চাকুরীজীবীদের আসি যাই , মাইনে পাই , কোনও দায়বদ্ধতা নাই , মানসিকতার যে নির্ঘাত পরিবর্তন করতে হবে তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু সরকারি চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে এই শ্রম কোড চালুর কারণ কি ? এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের যুক্তি দেশের মানুষ কে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের মানসিকতা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের মাথা ব্যাথার অন্ত নেই । এর কারণটা অবশ্য স্পষ্ট । কারণ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ কর্মীদের মানসিকতা সরকারি চাকরি পেলে তা কোনও ভাবে চলে যাওয়ার ভয় থাকেনা । তার কারণে অনেকেই সঠিক ভাবে তার ডিউটি (DUTY )অর্থাৎ কর্তব্য পালন করেন না । তার জেরে সরকারি পরিষেবা নিতে এসে এক প্রকার নাকাল হয়ে ফিরতে হয় সাধারণ মানুষ কে । তারওপর সরকারি চেয়ারে বসে পরিষেবা দেওয়ার নামে কখনও আর্থিক কারচুপি আবার কখনও দুর্নীতিতে হাবুডুবু খান অনেক সরকারি কর্মী । আর তাতেই নাজেহাল হতে সরকার কে ।
ঘরে বসেই প্রতিমাসে পেনশন পাবেন 50,000 টাকা ,এখনই নাম লেখান স্বল্প সঞ্চয় এই প্রকল্পে-National Pension Scheme
পাশাপাশি অনেক সরকারি কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের পরে তার অফিসে আসেন এবং অফিস ছুটির আগেই অফিস থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ির পথে রওনা দেন । অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের এই অনিয়ম - বেনিয়মের কারসাজী ঠেকাতে বেসরকারি অফিসের মতো সরকারি অফিস গুলিতেও চালু হয়েছে (ইন- আউট অনলাইন টাইম কোডিং সিস্টেম) । এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে টাইম (TIME ) বা সময়ের বিষয়ে সরকারি কর্মীদের কারসাজী অনেকটাই রুখে দেওয়া গেছে বলে দাবি সরকারের ।
written by -Somnath Pal .
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG - #GOVT #NEW RULE #EMPLOYEE #MODI #LABOUR CODE #COURT #JUSTICE

.jpg)