রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান।
কলকাতা : সবে মাত্র পার হয়েছে ২০২২ । নতুন বছরেও যে তাদের বিষয়ে সরকার যথেষ্ট উদাসীন তা বলাই বাহুল্য । কিন্তু সরকার যাই বলুক, রাজ্য সরকারি কর্মীরা অবশ্য তাদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে হাল ছাড়তে নারাজ । বকেয়া ডিএ -র দাবিতে আদালতের দরজায় কড়া নেড়েও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথে নেমে আন্দোলনের পাশাপাশি বিগত বছরের শেষের দিকে বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা । তা নিয়ে অবশ্য ঘটনার ঘনঘটা কম হয়নি । পুলিশের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের তুমুল ধ্বস্তাধস্তির সাক্ষী হয়েছে মহানগরী । পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক আন্দোলনের আক্ষা দিয়ে নয় নয় করে প্রায় ৪৬ জন রাজ্য সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার পর্যন্ত হতে হয়েছে । পরে অবশ্য আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার হওয়া কর্মীরা ছাড়া পান পুলিশি হেফাজত থেকে । এ নিয়ে রাজ্যের শাসক থেকে বিরোধী রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত ।
তবে এবার ন্যায্য পাওনার দাবিতে নতুন বছরেরে শুরুতেই রাজ্য সরকার কে নাস্তা নাবুদ করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে রাজ্য সরকারি কর্মীরা । কি সেই সিদ্ধান্ত যা নিয়ে সরকারের ঘুম ছুটতে পারে ? এ বিষয়ে রাজ্য সরকারি কর্মী ইউনিয়নের তরফে ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক দেবপ্রসাদ হালদার আগে ভাগেই জানিয়েছেন, বকেয়া ডিএ-য়ের দাবিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি গোটা রাজ্য জুড়ে গণছুটির ডাক দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সেদিন থেকে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনিটি ফোরামের আহ্বায়ক। এ বিষয়ে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রায় ২৫ টি সংগঠন কে ওই অবস্থান কর্ম সূচিতে অংশ নিতে দেখা যেতে পারে । এ বিষয়ে ঘোষিত আন্দোলন কর্ম সূচির রূপরেখা তৈরিতে আগামী ৮ ই জানুয়ারি নিজেদের মধ্যে আলোচনার দিন ধার্য করেছে একাধিক কর্মী সংগঠনের নেতৃত্ব । পাশাপাশি একযোগে কলকাতা পুরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভের কথাও জানিয়েছে রাজ্যের একাধিক সরকারি কর্মী সংগঠন । তারওপর মামলা ঝুলছে সুপ্রিম কোর্টের দরজায় । কবে সুরাহা হবে তা নিয়ে সংশয়ের অন্ত নেই ।
তবে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ নিয়ে রাজ নৈতিক তরজাও চলছে পাল্লা দিয়ে । ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত পূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর ফেস বুক পোস্ট ঘিরে গোটা রাজ্য জুড়ে তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা । মাত্র দিন কয়েক আগেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তাঁর ফেস বুক পোস্টে লিখেছেন , এবার হয়তো রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA দেবে রাজ্য সরকার । আর শুভেন্দুর এই ইঙ্গিত পূর্ণ মিন্তব্যের পরেই তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা । এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত , আগামী ১৬ ই জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে DA মামলার শুনানি । ওই মামলার রায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে যাবে বলে অনুমান করেই এমন মন্তব্য করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা । তবে শেষ পর্যন্ত মামলার রায়ে কি ফলাফল হয় তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত ।
তবে ইতিমধ্যেই এক ধাপ এগিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য ১২ শতাংশ DA ঘোষণা করেছেন । এর জন্য ত্রিপুরা সরকারের খরচ হবে ১৪৪০ কোটি টাকা । এই বাড়তি ডিএ ঘোষণার পরই ত্রিপুরার রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ -এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশে । পরিসংসংখ্যান বলছে এই বাড়তি ডি এ -র সুবিধা পাবেন ওই রাজ্যের ১ লক্ষ সরকারি কর্মচারী প্রায় আশি হাজার পেনশন ভোগী । কিন্তু ত্রিপুরা সরকার তাদের কর্মীদের বিষয়ে সদর্থক ভুমিকা নিলেও এ রাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি সরকারি কর্মীরা যে সরকারের নেক নজরে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । তবে পার্শ্ববর্তী একের পর এক রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বিষয়ে সেই রাজ্যের সরকারের সংবেদনশীলতা যে এ রাজ্যের সরকারকে যথেষ্ট চাপে রেখেছে সে কথা বলাই বাহুল্য ।
এরইমধ্যে রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের শূন্যতা নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কণ্ঠে যেমন শোনা গিয়েছে তীব্র কটাক্ষের শুর তেমনই রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের শূন্যতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গলায় প্রতি মুহূর্তে শোনা গিয়েছে আক্ষেপের সুর । কিন্তু তা বললে তো চলবে না । সরকারি কর্মীদের ডি এ-র দাবি যে যুক্তি সঙ্গত সে কথা স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাইকোর্ট । কিন্তু রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ারের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা যে একেবারে খাদের কিনারায় তা স্পষ্ট করেছেন রাজ্যের মুখ্য সচিব স্বয়ং ।
ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA নিয়ে হাইকোর্টে বেশ কয়েক দফা ঝাড়ি খেয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডি এ মামলায় বিগত বছরের মে মাসে রাজ্য সরকার কে তিন মাসের মধ্যে কর্মীদের বকেয়া ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের পরই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে রাজ্য সরকার। তাতেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে ২২ মের রায়ই বহাল রাখে হাইকোর্ট।
শেষ পর্যন্ত বকেয়া ডি এ না পেয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন রাজ্যের একাধিক কর্মচারী সংগঠন। সেই মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেইমতো সরকারের তরফে আদালতে হলফনামা পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের যুক্তি হাইকোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে গেলে ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনাতীত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় রাজ্য সরকারের তরফে।
কিন্তু ডি এ দিতেই হবে । এই দাবিতে অনড় রাজ্য সরকারি কর্মীরা । তাই আদালতের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের হুঁশ ফেরাতে বিগত বছরের মতো আবারও পথে নেমে আন্দোলনের দিকেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকারি কর্মীরা তবে শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের আন্দোলনের জেরে সরকারের হুঁশ ফেরে কিনা তার উত্তর পাওয়া যাবে আগামীতে । আপাতত কর্মীরা তাদের অবস্থানে অনড় ।
written by - Somnath Pal.
রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান।
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click
TAG - #DA #HIGHCOURT #GOVT #WB #SALARY #DEARNESS ALLOWANCE

.jpg)