সরকারি চাকরিতে সুখের দিন শেষ, নতুন বছরে মানতে হবে সরকারের করা নির্দেশ-WB Govt Employees Rule

 রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

কলকাতা  :  আসি যাই , মাইনে পাই । এবার বুঝি শেষের পালা । যেনতেন প্রকারেণ একটা সরকারি চাকরি (GOVT JOB ) জুটিয়ে নিতে পারলেই হল । ব্যাস তাহলেই কেল্লা ফতে । একেবারে সুনিশ্চিত ইনকাম আর আর্থিক ভাবে নিরাপদ জীবন । স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি চাকুরী জীবীদের জীবন একেবারে সুনিশ্চিত আর স্বাচ্ছন্দে ভরা ।  কারণ সরকারি চাকরিতে যেমন চাকরি  যাওয়ার ভয় নেই, তেমনি চাকরি শেষে মোটা অঙ্কের প্যাকেজ নিয়ে বার্ধক্য জীবন নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দেওয়া যায় দিব্যি । অথচ বেসরকারি চাকরিতে নিয়মটা অবশ্য বরাবরই ফেল কড়ি, মাখ তেল ।  তাই বেকার চাকরি প্রার্থীরাও ক্রমশ ঝুঁকে পড়েন সরকারি চাকরির আশায় ।  কিন্তু এবার সেগুড়ে বালি । এর কারণ কি ? তাহলে বিষয় টি স্পষ্ট করে বলাই ভালো । 



কেন্দ্রীয় হোক কিংবা রাজ্য সরকারি কর্মীদের কর্তব্যে গাফিলতির বিষয়ে আগেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার । সরকারি চাকুরি জীবীদের জন্য সাড়া দেশ ব্যাপি চালু হতে চলেছে শ্রম কোড (LABOUR CODE )। সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বিশেষ নিয়মটি চালু হওয়া যে শুধু সময়ের অপেক্ষা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । এই নিয়মটি চালু হলে সরকারি চাকুরীজীবীদের আসি যাই , মাইনে পাই , কোনও দায়বদ্ধতা নাই , মানসিকতার যে নির্ঘাত পরিবর্তন করতে হবে তা বলাই বাহুল্য। 


এ বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের যুক্তি, দেশের মানুষ কে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের মানসিকতা নিয়ে কেন্দ্র সরকারের মাথা ব্যাথার অন্ত নেই । এর কারণটা অবশ্য স্পষ্ট । কারণ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় বেশিরভাগ কর্মীদের মানসিকতা সরকারি চাকরি পেলে তা কোনও ভাবে চলে যাওয়ার ভয় থাকেনা । তার কারণে অনেকেই সঠিক ভাবে তার ডিউটি (DUTY )অর্থাৎ কর্তব্য পালন করেন না । তার জেরে সরকারি পরিষেবা নিতে এসে এক প্রকার নাকাল হয়ে ফিরতে হয় সাধারণ মানুষ কে । তারওপর সরকারি চেয়ারে বসে পরিষেবা দেওয়ার নামে  কখনও আর্থিক কারচুপি আবার কখনও দুর্নীতিতে হাবুডুবু খান অনেক সরকারি কর্মী । আর তাতেই নাজেহাল হতে সরকার কে । 


পাশাপাশি অনেক সরকারি কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের পরে তার অফিসে আসেন এবং অফিস ছুটির আগেই অফিস থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ির পথে রওনা দেন । অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের এই অনিয়ম - বেনিয়মের কারসাজী ঠেকাতে বেসরকারি অফিসের মতো সরকারি অফিস গুলিতেও চালু হয়েছে (ইন- আউট অনলাইন টাইম কোডিং সিস্টেম) । এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে টাইম (TIME ) বা সময়ের বিষয়ে সরকারি কর্মীদের কারসাজী অনেকটাই রুখে দেওয়া গেছে বলে দাবি সরকারের । এ বিষয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে কেন্দ্র সরকারের এই শ্রম কোডের বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত , কেন্দ্রে মোদী (MODI ) সরকার আসার পর থেকে সরকারি কর্মীদের মধ্যে থরহরি কম্পমান অবস্থা । আগামী ২০২৩ সাল থেকে সাড়া দেশ ব্যাপি সরকারি কর্মীদের বিষয়ে এই শ্রম কোড পদক্ষেপটি চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র সরকার । এই বিষয়টি চালু হলে শুধু মাত্র অফিসে আসা -যাওয়াই নয় সরকারি চেয়ারে বসে সরকারি কর্মীদের দুর্নীতির বিষয়টিও যে এক ধাক্কায় রুখে দেওয়া সম্ভব হবে তা বলাই বাহুল্য । 


এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে এ রাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কড়া বার্তা দিল রাজ্য সরকার । সম্প্রতি এ বিষয়ে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী তথা কোলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন , সরকারি চেয়ারে বসে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ পেলেই ওই কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে । পাশাপাশি তিনি বলেন , অভিযুক্ত কর্মীকে শো কজ করা হতে পারে । 


আসলে কলকাতা পুর সভার মেয়র তিনি । মহানগরীর নাগরিকদের প্রতি তাই দায় দায়িত্বও অনেক । কোথায় সঠিক ভাবে কাজ হচ্ছেনা সরাসরি অভিযোগ শুনতে বেশ কয়েক বছর আগেই গোটা মহা নগরি জুড়ে বেশ কয়েক বছর আগেই চালু হয়েছে TALK TO MEYOR . এই উদ্যোগের লক্ষ্য একটাই সরাসরি কোলকাতার সাধারণ নাগরিকরা  তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন খোদ মেয়র কে । সম্প্রতি টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কোলকাতার টালিনালা এলাকায় যান মেয়র ফিরহাদ হাকিম । সেখানেই কলকাতা পুরসভার সরাকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ  কর্মীদের কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ পান মেয়র । খোদ মেয়র কে কাছে ক্ষোভ উগড়ে দেন এলাকার মানুষ । আর তাতেই একেবারে সরকারি পুর কর্মীদের বিষয়ে একেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিম । 


অনুষ্ঠানে এলাকার মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শোনেন মেয়র । এরপরই সরাকারি পুর কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন তিনি । তিনি বলেন , আসি যাই , মাইনা পাই আর চলবে না । সাধারণ মানুষের করের টাকায় সরকার চলে । তাই সাধারণ মানুষকে গুরুত্ব সহকারে সঠিক এবং উন্নত পরিষেবা দিতেই হবে । এবিষয়ে মেয়র বলেন , কোনও কর্মী তার দায়িত্ব পালন না করলে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এরপরই ওই এলাকার পরিত্যাক্ত খাল সংস্কার করে নিকাশির কাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলেন মেয়র । এমনকি দীর্ঘদিন ধরে কাজ না কড়া ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়াও নির্দেশ দেন তিনি । 


তবে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ প্রথম নয় , বেশ কয়েক বছর আগেই জেলায় জেলায় উন্নয়নের কাজ সরে জমিনে খতিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকের সুচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আসলে কয়েকমাস পরেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন । এর আগে এদকাধিক দুর্নীতি ইস্যুতে জর্জরিত রাজ্যের শাসক দল । এই অবস্থায় দল এবং সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার ও তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্ব ।  সরকারি কর্মী দের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের  এদিনের কড়া বার্তাও যে সেই কর্ম সূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করল তা বলাই বাহুল্য । 


written by -Somnath Pal . 

রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

For More Job News: Click Here


 Join Our Telegram Channel :   Click

TAG - #GOVT #NEW RULE #EMPLOYEE #MODI #MAMTA #FIRHAD HAKIM #KOLKATA #MAYOR