তৃণমূল জামানায় সরকারি চাকরি হয়েছে! তাদের মহা বিপদ। জানুন কাদের ও কেন - WB Govt Job।

  কলকাতা : কথায় বলে বিপদ কখনও বলে আসেনা। কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা খাটেনা। কারণ বিপদ এবার এলো জানান দিয়েই। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী (INVESTIGETION) সংস্থার তদন্তের মুখে পড়তে চলেছেন রাজ্যের ৬০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। আসলে ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৬০ হাজার শূন্য পদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। এবার ওই শিক্ষকদের নিয়োগের বিষয়টি খুঁটিয়ে দেখবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের (ED) আধিকারিকরা। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন রাজ্যের ৬০ হাজার প্রাথমিক (PRIMARY TEACHER) শিক্ষক। 



কিন্তু প্রশ্ন একটাই, কি এমন ঘটনা ঘটল যাতে তৃণমূল জামানায় নিয়োগ হওয়া ওই ৬০ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ সম্পর্কিত ঠিকুজী কুষ্ঠী খুঁটিয়ে দেখে নিতে চাইছেন তদন্তকারী গোয়েন্দা আধিকারিকরা। 


এমনিতে শিক্ষক দুর্নীতি কাণ্ডে তৃণমূলের (TMC)ঘাস ফুলের ওপর কলঙ্কের কালি যে বেশ দেগে বসেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।   গত কয়েমাসের ব্যবধানে কলকাতা হাইকোর্টের(HIGH COURT) নির্দেশে  সিবিআই  ও ইডির  (CBI &ED) যৌথ তদন্তে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উঠে আসছে ক্রমশ। তার ওপর তৃণমূলের হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় কে নিয়ে শাসক দলের অস্বস্তির সীমা নেই। তৃণমূল সুপ্রিমও অবশ্য এই ঘটনাকে  বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বললেও, একধাপ এগিয়ে দল ও মন্ত্রিত্ব থেকে পার্থকে অপসারণ করে আপাতত রেহাই পেতে চাইছেন শিক্ষক নিয়োগের সীমাহীন দুর্নীতির বেড়াজাল থেকে। 


কিন্তু তৃণমূল নেত্রী যতই চেষ্টা করুন দুর্নীতির শিকড় যে বেশ গভীরে তা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তে পরোতে পরোতে উঠে আসা টাকার পাহাড় ও বেলাগাম সম্পত্তিই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আসলে তদন্তকারী আধিকারিকরা দুর্নীতির উৎস মুখে পৌঁছাতে চাইছেন। মূলত দুই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই তদন্তের খিদেই তৃণমূলের সমুহ বিপদের কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 


কখনও ইডি কখনও সিবিআই,  স্কুল সার্ভিস(SSC) কমিশন হোক কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা তদন্ত চলছে জোর কদমে।   


কিন্তু দুর্নীতি কাণ্ডে শাসক দল একা নয় তার সঙ্গে দোসর হয়েছে গত ১১বছরে রাজ্যের প্রাথমিক (PRIMARY TEACHER)বিদ্যালয় গুলিতে নিয়োগ হওয়া ৬০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক মণ্ডলী। তৃণমূল জমানায় এতো সংখ্যক  নিয়োগ যে মোটের ওপর সোজা পথে মেধার ভিত্তিতে হয়নি তা ইতিমধ্যেই টের পেয়েছেন তদন্তকারী গোয়েন্দা আধিকারিকরা। তাই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে  ওই ৬০ হাজার শিক্ষকের নিয়োগ সম্পর্কিত যাবতীয় নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখে নিতে চাইছেন গোয়েন্দারা।  


ফলস্বরুপ মাত্র কয়েকদিন আগেই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ কে চিঠি দিয়ে তৃণমূল জমানায়  গত ১১ বছরে নিয়োগ হওয়া ৬০  হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের নিয়োগের যাবতীয় নথি ইডির অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে। চলতি মাসের ৯ ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই নথি পাঠাতে বলা হলেও কাজটি দ্রুত করা সম্ভব নয় বলে ইডির কাছ থেকে সময় চেয়ে নেওয়া হয় প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ মারফৎ। তবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নব নিযুক্ত সভাপতি গৌতম পাল অবশ্য ইডির নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের জেলায় জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের অফিসগুলিতে ইডির ওই নির্দেশ নামা পাঠিয়েও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে পর্ষদ সুত্রে।


ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, তৃণমূল জমানায় অর্থাৎ গত ২০১১ সালের পর থেকে যারা প্রাথমিকে শিক্ষক পদে নিযুক্ত হয়েছেন তাদের যাবতীয় নথি যেমন, পে স্লিপ, নিয়োগের চিঠি অর্থাৎ অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারের প্রতিলিপি , টেট (TET)পরীক্ষার রেজাল্ট,  টেট পরীক্ষার রোল নম্বর, তার প্রাপ্ত মার্কস ও শংসাপত্র, নিজের মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট, ডিএল‌এড ট্রেনিংয়ের শংসাপত্র,  ইত্যাদি পর্ষদ অফিসে দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ওই নথি প্রাথমিক পর্ষদ থেকে ইডির অফিসে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। 


আর এই নির্দেশের পরেই গোটা রাজ্য জুড়ে যেন গেল গেল রব রব উঠেছে সর্বত্র। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তদন্তের অভিমুখে যে এবার রাজ্যের ৬০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক সরাসরি পড়তে চলেছেন তা বোধ করি বলার অপেক্ষা রাখেনা। 


ফলে অসাধু ভাবে নিয়োগ হওয়া শিক্ষকদের পাশাপাশি স্বচ্ছ ভাবে নিয়োগ হওয়া প্রাথমিক শিক্ষকরাও এবার মহা বিপদে পড়তে চলেছেন বোধ করি বলার অপেক্ষা নেই। কারণ একে তো  কলকাতা হাইকোর্টের একের পর এক কঠোর নির্দেশ  তার ওপর দুই তদন্তকারী সংস্থার জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে শেষ পর্যন্ত চাকরি হারানোর ভয়ে শরীরে কাঁটা দিচ্ছে ওই ৬০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। 

পড়ুয়াদের ১০,০০০ টাকা স্কলারশিপ দেন মমতা নিজেই , এক্ষুনি আবেদন জানান নবান্নে। WB Govt Scholarship ।

তবে এই ঘটনার পিছনে বিশেষ তাৎপর্য আছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ ইতিমধ্যেই একাধিক জেলায় টাকা বা ঘুষের বিনিময়ে চাকরির অভিযোগ উঠেছে বিস্তর।  ফলে স্বচ্ছ নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন মেধা তালিকায় নাম থাকা প্রকৃত চাকরি প্রার্থীরাই। শেষ পর্যন্ত কি হয় সেটাই এখন দেখার।

মাত্র কয়েক হাজারে ব্যবসা শুরু করে, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করুন। New Business Idea ।

written by- Somnath Pal. 


চাকরি হোক কিংবা সরকারি প্রকল্প , সঠিক খবর পেতে চোখ রাখুন bongodhara.com -এ 


Join Telegram Channel : Click Here


More News : Click Here


TAG- #PRIMARY TEACHER#RECRUITMENT#ED#CBI#TET#HIGH COURT