কলকাতা - খেলা, মেলা আর উৎসব। তার ওপর অযথা দান খয়রাতী। এই করেই সব টাকা শেষ। বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য এমনটাই। এমনিতে রাজ্যের কোষাগারের অবস্থা ভাঁড়ে মা ভবানী, তারওপর ভোট রাজনীতির স্বার্থে একের পর এক প্রকল্প। আর তাতেই একেবারে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। রাজ্যের আর্থিক ভাঁড়ার যে ক্রমশ দৈনতার দিকে ধাবমান তা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট। তবে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই হাঁটে হাঁড়ি ভেঙ্গেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী এক কদম এগিয়ে দাবি করেন, ডিএ তো দুরস্ত, সরকারি কর্মীদের আগামী ডিসেম্বর মাসের মাইনে সরকার দিতে পারবেনা আগাম ভবিষৎবাণী করেন তিনি।
তবে শুধু বিরোধী দলগুলিই নয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে এক অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে টাকার জন্য চিন্তায় রাতের ঘুম উধাওয়ের কথা শুনিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং । তার পরেও রাজ্যের পুজো কমিটি গুলিকে আর্থিক অনুদান দিতে রাজ্যের কোষাগার থেকে চলে গিয়েছে ২৫৮ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর এই দান খয়রাতীর রাজনীতিকে অবশ্য কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের বিরোধী দল গুলি। এ নিয়ে মামলা গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য তার নিজের সিদ্ধান্তেই অবিচল। শেষ পর্যন্ত পার হয়েছে পুজো।
কিন্তু এবার কি হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের DA নিয়ে হাইকোর্টে ঝাড়ি খেয়েছে রাজ্য সরকার। চলতি বছরের মে মাসে ডি এ মামলায় রাজ্য সরকার কে তিন মাসের মধ্যে কর্মীদের বকেয়া ডিএ অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের পরই পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টে রিভিউ পিটিশন দাখিল করে রাজ্য সরকার। তাতেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। রাজ্য সরকারের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে ২২ মের রায়ই বহাল রাখে হাইকোর্ট। অর্থাৎ ডেড লাইন তিন মাস। তিন মাসের মধ্যেই সরকারি কর্মীদের সপ্তম বেতন কমিশনের বকেয়া ডি এ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
শেষ পর্যন্ত বকেয়া ডি এ না পেয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেন রাজ্যের একাধিক কর্মচারী সংগঠন। সেই মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং অর্থসচিবকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সেইমতো আজ হলফনামা পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, হাইকোর্টের রায় চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের যুক্তি হাইকোর্টের নির্দেশ মতো রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দিতে গেলে ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। সেই পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হতে পারে, তা কল্পনাতীত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। তবে এরই মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডি এ বিষয়ে মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য সরকার।
তথাপি রাজ্য সরকারকে স্বস্তি দিতে নারাজ রাজ্যের একাধিক করচারি সংগঠন। আসলে হকের দাবি বলে কথা। সরকারি কর্মীদের ডি এ -ের দাবিকে সম্মতি জানিয়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায় ডি এ সরকারি কর্মীদের ন্যায্য পাওনা এবং অধিকার। এমনিতে আদালত অবমাননা মামলা চলাকালীন একধাপ এগিয়ে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু আদালত অবমাননার মতো মামলায় রাজ্য সরকার কে কাঠ গড়ায় তুলতে ইতিমধ্যেই একধাপ এগিয়ে গিয়েছে রাজ্যের একাধিক কর্মচারী সংগঠন। আগামী বুধবার রয়েছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি রয়েছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কর্মচারী সংগঠনের করা আদালত অবমাননার মামলার।
সুসংবাদ! চাকুরি জীবিদের জন্য বড় খবর শোনালো সরকার , দেখে নিন চটপট-WB Govt Employees News
এমত অবস্থায় বেশ সতর্ক রাজ্যের কর্মচারী সংগঠন । সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে এই বলে যে রাজ্য সরকার আদালত অবমাননার মামলায় যাতে কোনও প্রভাব খাতাতে না পারে সে জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রস্থ আলচনাও করে ফেলেছেন সংগঠনের একাধিক নেতৃত্ব। তাদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েত দাখিল করে রাজ্য সরকার হাইকোর্টে রেহাই পেতে চাইছে। কিন্তু এ বিষয়ে রজ্য সরকারকে অ্যাডভেন্টেজ দিতে নারাজ বঞ্চিত সরকারি কর্মীরা। আগামী বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই মহামান্য বিচাটপতি হরিশ ট্যান্ডন এবং বিচারপতি রবীন্দ্র নাথ সামন্তের এজলাসে এই মামলার শুনানি । এই অবস্থায় রাজ্য সরকার যে ফের একবার ধাক্কা খাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কি হয় সেটাই এখন দেখার। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে রাজ্য সরকার কে একাহাত নেয় কি না সেটাই এখন দেখার।
written by - Somnath Pal.
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG - #DA #HIGHCOURT #GOVT #WB #SALARY #MAMTA #SHUBHENDU


.jpg)