কলকাতা : 'যারা বিচার পান নি, তারা আমাদের থেকেই বিচার পাবেন', গত ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাজ্যের আন্দোলনরত চাকরি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এমনই আশারবানী শুনিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা (MAMTA BANERJEE) বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আমরা বিচার চাইনা, চাকরি চাই। চাকরি প্রার্থীদের দাবি এমনটাই। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির জেরে ইতিমধ্যেই উচ্চ আদালতের নির্দেশে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের যাবতীয় প্রক্রিয়ায় থমকে রয়েছে বেশ কয়েক বছর যাবত। তারওপর প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে একাধিক শিক্ষা আধিকারিকের গ্রেফতার সহ লাগামহীন দুর্নীতির জেরে বেশ অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসকদল।
একে তো সীমাহীন দুর্নীতি তার ওপর দীর্ঘ দিন ধরে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ফলস্বরুপ রাজ্যের প্রাথমিক(PRIMARY) থেকে শুরু করে মাধ্যমিক- উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলির অবস্থা তথৈ বচ। এই অবস্থায় চাকরি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই আশার বানী যে কতটা কার্যকর সে বিষয়ে সন্দেহের দানা বাঁধে রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদের মনে। কিন্তু এ যে শুধু কথার কথা নয় তার প্রমান মেলে বিগত দুর্গা পুজোর আগেই। কারণ একধাপ এগিয়ে পুজোর আগেই রাজ্যের নব নিযুক্ত পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল বলেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে পুজোর পরেই রাজ্যে নতুন করে টেট(TET) পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারি তরফে ইতিমধ্যেই বার কয়েক আলোচনার পাশাপাশি দ্রুত গতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য ঘেঁটে ফেলেন পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল। ওই সময় গৌতম বাবু সাফ জানান, সামনেই দুর্গা (DURGA PUJA)পুজো। এই অবস্থায় টেট পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু পুজো পার হলেই আগামী নভেম্বর মাস নাগাদ টেট পরীক্ষা নেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রতি বছর নিয়ম করে টেট পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি পরীক্ষায় স্বচ্ছতার বিষয়েও কড়া অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দেন তিনি। এরপরই টেট পরীক্ষা নিয়ে পর্ষদ সভাপতির কথায় আশার আলো দেখেন রাজ্যের হাজার হাজার বেকার চাকরি প্রার্থীরা।
শেষ পর্যন্ত চলতি দুর্গা পুজোর মধ্যেই রাজ্যে প্রাথমিকে টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চাকরি প্রার্থীদের কাছে আবেদন পত্র চাওয়ার কাজ শুরু করে প্রাথমিক পর্ষদ । সেই মতো চাকরি প্রার্থীরাও আবেদন পত্র পাঠানোর পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করে জোর কদমে। কিন্তু এক নিমেষেই চাকরি প্রার্থীদের সব আশায় জলে গেল । কারণ সাম্প্রতিক ডি এল এড পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস কাণ্ডে ইতিমধ্যেই চাকরি প্রার্থী থেকে শুরু করে গোটা রাজ্যের মানুষ ফের কাঠ গড়ায় তুলেছে নব প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ কে । এ বিষয়ে নব নিযুক্ত পর্ষদ সভাপতিকেই দুষেছেন ডি এল এড পরীক্ষায় বসা পরীক্ষার্থীরা । ঘটনার সুত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে ডিএলএড (WBBPE D.El.Ed ) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ।
সরাসরি ৫০ হাজার টাকা দিচ্ছে ভারত সরকার, এখনই আবেদন করুন এই স্কলারশিপের জন্য-PWS Scholarship
খবরে প্রকাশ, ২০২০ – ২২ শিক্ষাবর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার প্রথম দিনে । পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী সোমবার দুপুর ১২টা নাগাদ ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হলেও সকাল ১০ টা ৪৭ মিনিট নাগাদ হোয়াটসঅ্যাপে ডিএলএড কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের দাবি , পরীক্ষা কেন্দ্রে যে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া প্রশ্নপত্র দুটোই এক । তবে এই ঘটনা প্রথম নয় , আগেও ২০১৪ সালে প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে । এ বিষয়ে নব নিযুক্ত পর্ষদ সভাপতি গৌতম পাল (GAUTAM PAL ) অবশ্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্রের তত্ব খাঁড়া করেছেন । তিনি বলেন, সরকার এবং পর্ষদের ভাব মূর্তিকে কালিমালিপ্ত করতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে । তবে বিষয়টি উপযুক্ত তদন্ত করে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
written by - Somnath Pal.
For More Job News: Click Here
Join Our Telegram Channel : Click Here
TAG- #ED #CBI #TET #MAMTA BANERJEE #GOUTAM PAL #PRIMARY #EDUCATION #QUESTION

.jpg)