ফের নয়া প্রকল্প মমতার, প্রত্যেক মহিলা মাসে 1000 টাকা ভাতা পাবেন-WB Govt 'WE' Prakalpo

 রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

মা, মাটি, মানুষ।  এই স্লোগান কে হাতিয়ার করেই তিন -তিন বার  রাজ্যের মসনদে তৃণমূল সরকার। নিন্দুকের কাজ নিন্দা করা। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই মুখ্যমন্ত্রীর। যেন তেন প্রকারেণ রাজ্যের মানুষের মানুষের উন্নতি সাধনই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে প্রায় ৭০ টির ওপর জনমুখি প্রকল্প চালু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত কয়েক বছর যাবত এই জনমুখি প্রকল্পগুলির কাজ চলছে জোর কদমে। গোটা রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে সুবিধাও পাচ্ছেন অকছর। 



তবে মুখ্যমন্ত্রীর আসল ভোট ব্যাঙ্কের চাবিকাঠি রাজ্যের মহিলা বা মায়েদের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তাই মহিলাদের উন্নতির দিকে মুখ্যমন্ত্রীর নজর সর্বাগ্রে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে গোটা রাজ্যের মহিলাদের বিশেষ করে ঘরের গৃহিণীদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো জনমুখি প্রকল্পের সুচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওয়ায় গোটা রাজ্যের মহিলারা মাসে ৫০০- ১০০০ টাকা পর্যন্ত  মাসিক ভাতা পান। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ক্যাটাগরির মহিলারা মাসে ৫০০ টাকা এবং তপশিলি জাতী -উপজাতি সম্প্রদায়ের সকল মহিলা মাসে ১০০০ টাকা পান মাসকাবারি। কিন্তু সাম্প্রতিক অগ্নি মুল্যের বাজারে ৫০০- ১০০০ টাকায় কি হয়। সেই চিন্তা করেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। 


তবে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের লক্ষ্য মেঘালয় । আসলে ভোট বড় বালাই । তার ওপর রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রসারণ । একদিকে বছর ঘুরলেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন তার ওপর ২০২৪ এ রয়েছে লোকসভা নির্বাচন । এই অবস্থায় কেন্দ্রের মোদী সরকারকে কোন ঠাসা করতে একের পর এক রাজ্যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি ক্রমশ তাদের শক্তি বৃদ্ধিতে নজর দিয়েছে । তার ওপর দেশীয় রাজনীতিতে জাতীয় দলের তকমা পেতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল । ঠিক যেমনটা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এর ক্ষেত্রে । ইতিমধ্যেই দিল্লি ও পাঞ্জাবের মসনদ দখল করে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে গুজরাটের মাটিতে নিজেদের শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে আম আদমি পার্টি। ইতিমধ্যেই জাতীয় দলের স্বীকৃতি জুটেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির ভাগ্যে । সেই তালিকায় পিছিয়ে নেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাওয়ের তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি । দেশের মাটিতে ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে একাধিক রাজনৈতিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল । 


তবে এক্ষেত্রে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া গোয়া হোক কিংবা ত্রিপুরা একাধিক রাজ্যে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে হোঁচট খেয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কিন্তু তিনি যে হাল ছারতে নারাজ তা তার সাম্প্রতিক মেঘালয় সফর ঘিরেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন । আগামী ২০২৩ -য়েই রয়েছে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের পাশাপাশি মেঘালয় রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন । যতই হোক হাড় হিম ঠাণ্ডা, ভোটের ময়দানে  রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতেই হবে । তাই এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে ভিন রাজ্য মেঘালয়ে নিজের রাজনৈতিক মাটি তৈরি করতে ছুটে গিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী স্বয়ং । সঙ্গে দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । 


শুধুইকি দলীয় অবস্থান জানান দেওয়া, এর সাথে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেঘালয়ের মাটিতেও তার জনমোহিনী রুপ তুলে ধরতে এ রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো মেঘালয়ের মাটিতে উই কার্ড( WE CARD) চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন । তবে এক্ষেত্রে এ রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুকরণে মেঘালয়ের মহিলাদের জন্য উই কার্ড চালু করার কথা বললেও তা একটু ভিন্ন রকম । কারণ মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে এরাজ্যের মহিলারা যেমন ক্যাটাগরি অনুযায়ী ৫০০ - ১০০০ টাকা পান । কিন্তু মেঘালয়ের মাটিতে উই কার্ড - এর ক্ষেত্রে ওই রাজ্যের প্রত্যেক  মহিলাকেই মুখ্যমন্ত্রী ১০০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন  । অর্থাৎ তৃণমূল যদি মেঘালয়ের মাটিতে ক্ষমতায় আসে তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি মতো ওই রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাই মাসে মাসে এক হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাবেন । 


তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উই কার্ডকে বিরোধী বিজেপি অবশ্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালের রেবড়ি কালচার অর্থাৎ অযথা স্বস্তা দান খয়রাতীর  রাজনীতির সঙ্গে তুলনা করেছেন । কিন্তু সে দিকে কান দিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী । তিনি অবশ্য নিজের সিধান্তেই অবিচল । জানা গিয়েছে , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর পরই মেঘালয়ের মাটিতে বেশ সাড়া পড়েছে উই কার্ড (WE CARD) বিষয়টি নিয়ে । ইতিমধ্যেই ওই রাজ্যের প্রায় ১০ হাজার মহিলা উই কার্ড-র জন্য আবেদনও জানিয়েছেন । কারণ মেঘালয় সফরের কর্মসূচীর মধ্যেই ওই রাজ্যের  কয়েকটি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে প্রতিকি উই কার্ড মেঘালয়ের বেশ কয়েকজন মায়েদের হাতে তুলে দেন তৃণমূল নেত্রী । আর তাতেই বিষয়টি বেশ সাড়া পড়ে গোটা মেঘালয় জুড়ে । কিন্তু এ রাজ্যের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুরুপ মেঘালয়ের মাটিতে উই কার্ড শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ভোট বাক্সে ডিভিডেন্ড দেয় কিনা তার উত্তর মিলবে ২০২৩ -এ মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ।  আপাতত তৃণমূল নেত্রীর এই উই কার্ড নিয়ে  গোটা মেঘালয়ের মহিলাদের মনে যে খুশির হাওয়া তা বলাই বাহুল্য । 


written by - Somnath Pal. 

রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের নানা ধরনের চাকরির খবর সঙ্গে রাজ্য তথা কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা সংক্রান্ত আরও বহু আপডেট পেতে বঙ্গধারার WhatsApp Group অথবা Telegram Channel এ যুক্ত হয়ে যান। 

For More Job News: Click Here


 Join Our Telegram Channel :   Click Here


TAG- #LAKSHMI BHANDAR #PRAKALPA #WB #CM #MAMTA BANERJEE #WE CARD #MEGHALAY